আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
অস্ট্রেলিয়ার ভার্জিন অস্ট্রেলিয়া এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট মাঝ আকাশে ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখে পড়ে। সোমবার (২১ জুলাই) সকালে সিডনি থেকে ছেড়ে যাওয়া ‘ভিএ১৫৮’ ফ্লাইটটি হোবার্টের উদ্দেশে যাত্রা করেছিল। কিন্তু অবতরণের কিছুক্ষণ আগে হঠাৎ কেবিনে আগুন ধরে যায় এবং চারদিকে ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে। তবে কেবিন ক্রুদের তাৎক্ষণিক দক্ষতায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পায় বিমানটি।
স্থানীয় সময় সকাল ৯টার কিছু পর, হোবার্টে অবতরণের মুহূর্তে বোয়িং ৭৩৭-৮এফই মডেলের এই বিমানে আগুনের সূত্রপাত হয়। দ্রুত কেবিনে ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ায় যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। তবে কেবিন ক্রুরা দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন এবং বিমানটি নিরাপদে অবতরণ করে।
প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, কোনো যাত্রীর লাগেজে থাকা একটি পাওয়ার ব্যাংক বা লিথিয়াম ব্যাটারি থেকেই আগুনের সূচনা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কেবিন ক্রুরা এক পর্যায়ে একটি ওভারহেড কম্পার্টমেন্ট খুলে সেখানে আগুনে পোড়া ব্যাটারি দেখতে পান।
বিমান কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রথমে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র দিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তাতে পুরোপুরি কাজ না হওয়ায় কেবিন ক্রুরা পানির বোতল দিয়ে আগুন নেভাতে থাকেন। অনেক যাত্রীও এতে সহযোগিতা করেন।
‘পালস তাসমানিয়া’ নামের এক স্থানীয় অনলাইন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিমানের ভেতর ধারণ করা এক ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, এক কেবিন ক্রু ধোঁয়া বের হওয়া ব্যাগে অগ্নিনির্বাপক ব্যবহার করছেন এবং আশপাশের যাত্রীরা পানির বোতল দিয়ে সহায়তা করছেন।
ভার্জিন অস্ট্রেলিয়ার এক মুখপাত্র জানান, আগুন লাগার ঘটনা সত্ত্বেও কেবিন ক্রুর দক্ষতায় তা অবতরণের আগেই নিয়ন্ত্রণে আসে। হোবার্ট বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর দমকল কর্মীরা ব্যাগটি উদ্ধার করেন।
এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি বলে নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ। তবে এ ঘটনাটি যাত্রীদের মধ্যে বড় ধরনের আতঙ্ক তৈরি করে এবং বিমানে লিথিয়াম ব্যাটারি বহনের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।








