সোমবার, ১৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

কম্বোডিয়ায় থাইল্যান্ডের বোমা হামলা, উত্তপ্ত সীমান্ত পরিস্থিতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

বিরোধপূর্ণ সীমান্তে সংঘর্ষের জেরে কম্বোডিয়ায় যুদ্ধবিমান দিয়ে বোমা হামলা চালিয়েছে থাইল্যান্ড। পাল্টাপাল্টি গোলাগুলির পর এই হামলা চালানো হয় বলে জানিয়েছে থাই সেনাবাহিনী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ এক বিবৃতিতে তারা জানায়, কম্বোডিয়ান ব্যাটালিয়নের উপর সফল হামলা চালিয়ে তাদের সব এফ-১৬ যুদ্ধবিমান নিরাপদে ঘাঁটিতে ফিরে এসেছে।

বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) ভোররাতে সীমান্তের বিতর্কিত অঞ্চলে দুই দেশের সেনাদের মধ্যে তুমুল গোলাগুলি হয়। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, কম্বোডিয়ান বাহিনীর ছোড়া রকেটের আঘাতে থাইল্যান্ডের দুই বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। এরপরই থাই সেনাবাহিনী ওই এলাকায় ফাইটার জেট মোতায়েন করে।

থাই সেনাবাহিনী দাবি করেছে, তাদের যুদ্ধবিমান কম্বোডিয়ার সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়ে স্পেশাল মিলিটারি রিজিয়ন কমান্ডস ৮ ও ৯ ধ্বংস করেছে। এদিকে, কম্বোডিয়ার জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে অভিযোগ করেছে, থাইল্যান্ড অতিরিক্ত সেনা ও ভারী অস্ত্র মোতায়েন করে তাদের ভূখণ্ড দখলের চেষ্টা করছে এবং এটি একটি নৃশংস ও অবৈধ সামরিক আগ্রাসন, যা জাতিসংঘ সনদের সরাসরি লঙ্ঘন।

কম্বোডিয়ার পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, থাই যুদ্ধবিমান তাদের ভূখণ্ডে অন্তত দুটি বোমা ফেলেছে।

দেশটির প্রধানমন্ত্রী হুন মানেত একে সরাসরি সশস্ত্র হামলা হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেন, “কম্বোডিয়া শান্তিপূর্ণ সমাধানে বিশ্বাসী, কিন্তু এই আগ্রাসনের মুখে প্রতিরোধ করা ছাড়া আমাদের আর কোনো পথ খোলা নেই।”

এদিকে থাইল্যান্ডের সীমান্তবর্তী সুরিন প্রদেশের একজন স্থানীয় প্রশাসনিক কর্মকর্তা জানান, সংঘর্ষপূর্ণ এলাকার কাছাকাছি থাকা ৮৬টি গ্রাম থেকে অন্তত ৪০ হাজার বাসিন্দাকে সরিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে নেওয়া হয়েছে।

সীমান্তে উত্তেজনা এখনো বিরাজমান। দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলে আশঙ্কা বিশ্লেষকদের।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এই বিভাগের আরও সংবাদ >

সর্বশেষঃ