নিজস্ব প্রতিবেদক:
অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে অভিযুক্ত বা অযোগ্য হিসেবে বিবেচিত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পার্বত্য চট্টগ্রামে শাস্তিমূলক বদলির ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম সমিতি, ঢাকা।
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটি জানিয়েছে, দেশের অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি হিসেবে পরিচিত হলেও পার্বত্য চট্টগ্রাম এখনও যোগাযোগ ব্যবস্থা ও নাগরিক সুবিধার দিক থেকে পিছিয়ে। এই জনপদে প্রায় ২০ লাখ বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মানুষের বসবাস। এটি একদিকে যেমন অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি, তেমনি বিশেষ বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন অঞ্চলও বটে।
তবে দুঃখজনকভাবে লক্ষ্য করা যাচ্ছে, দেশের অন্যান্য ৬১ জেলার মধ্যে কোনো কর্মকর্তা যদি অসৎ বা অযোগ্য প্রমাণিত হন, তাহলে তাকে শাস্তিমূলক বদলি হিসেবে পার্বত্য চট্টগ্রামে পাঠানো হয়। সম্প্রতি মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার এক ছাত্রীকে কুপ্রস্তাব দেয়ার অভিযোগে সহকারী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান খানকে বান্দরবান জেলায় বদলি করার ঘটনায় বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে এক যৌথ বিবৃতিতে সভাপতি এ এইচ এম ফারুক, সিনিয়র সহ-সভাপতি মিতায়ন চাকমা এবং সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন ভূঁইয়া বলেন, “পার্বত্য চট্টগ্রাম কোনোভাবেই অপরাধী বা অযোগ্যদের পুনর্বাসন কেন্দ্র হতে পারে না।” তারা প্রশ্ন তোলেন, “কেন এই জনপদকে অসৎ ও অযোগ্য কর্মকর্তাদের জন্য ‘শাস্তির জায়গা’ হিসেবে বিবেচনা করা হবে?”
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সুশাসন ও সরকারি সেবা নিশ্চিত করতে পার্বত্য এলাকায় প্রয়োজন সৎ, দক্ষ ও মেধাবী কর্মকর্তাদের। অপরাধে জড়িতদের পার্বত্য চট্টগ্রামে পদায়নের মাধ্যমে এই অঞ্চলকে পরিকল্পিতভাবে পিছিয়ে রাখা হচ্ছে বলেও মন্তব্য করা হয়।
সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম সমিতি বলেছে, অপরাধী বা অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের পার্বত্য চট্টগ্রামে বদলি না করে এই অঞ্চলে যোগ্য ও উৎসাহী কর্মকর্তাদের পদায়ন করতে হবে। এতে করে মেধাবীদের পাহাড়মুখী করা সম্ভব হবে এবং জনসেবা আরও কার্যকর হবে।
সংগঠনটি হুঁশিয়ারি দিয়ে জানায়, ভবিষ্যতে এ ধরনের শাস্তিমূলক বদলি অব্যাহত থাকলে পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগণ কঠোর কর্মসূচি নিতে বাধ্য হবে।








