(ফাইল ছবি)
পথে প্রান্তরে ডেস্ক:
রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়িতে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমানবাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় আরও এক দগ্ধ কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। মারা যাওয়া কিশোরের নাম জারিফ, বয়স ১৪ বছর।
শনিবার সকাল ৯টা ১০ মিনিটে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ নিয়ে দুর্ঘটনায় মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৪ জনে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত জারিফের মরদেহ তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়নি।
গত ২১ জুলাই দুপুর ১টা ৬ মিনিটে রাজধানীর তেজগাঁওয়ের বিমানবাহিনী ঘাঁটি ‘এ কে খন্দকার’ থেকে যুদ্ধবিমানটি উড্ডয়ন করে। মাত্র ১২ মিনিট পর, দুপুর ১টা ১৮ মিনিটে সেটি উত্তরার দিয়াবাড়ি এলাকায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভবনে বিধ্বস্ত হয়। বিমানটি যান্ত্রিক ত্রুটির শিকার হয়েছিল বলে জানা গেছে।
পাইলট ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মো. তৌকীর ইসলাম দুর্ঘটনা মোকাবিলায় জনবহুল এলাকা এড়িয়ে জনবিরল এলাকায় বিমানটি নামানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি তা করতে ব্যর্থ হন এবং বিমানটি স্কুল ভবনের দোতলায় আঘাত হানে।
দুর্ঘটনার পর সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ, সাধারণ শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা উদ্ধারকাজে অংশ নেন। আহতদের দ্রুত রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়। এ পর্যন্ত দুর্ঘটনায় পাইলটসহ ৩৪ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন প্রায় দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবক। আহতদের মধ্যে এখনো ৫০ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আহতদের চিকিৎসায় সহায়তা করতে ইতোমধ্যে চীন, ভারত ও সিঙ্গাপুরের বিশেষ মেডিকেল দল বাংলাদেশে এসে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের চিকিৎসকদের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
এ ঘটনায় ওইদিনই আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) থেকে জানানো হয়, একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে কাজ করছে।
সরকার জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা ও জনসুরক্ষা উন্নয়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা রোধে বিমান চলাচল ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থায় আরও কঠোর নজরদারি এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়ন নিশ্চিত করা হবে।








