আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একাধিক সংকট একসঙ্গে গভীর হয়ে উঠছে, যা শেষ পর্যন্ত বৈশ্বিক সংঘাতে রূপ নিতে পারে।
শনিবার (২৬ জুলাই) রোমানিয়ার বাইল তুসনাদ শহরে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এ আশঙ্কার কথা জানান তিনি। রুশ সংবাদমাধ্যম তাস এক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করেছে।
ভিক্টর অরবান বলেন, “বিশ্বজুড়ে সংঘাতের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। অস্ত্র প্রতিযোগিতা দিন দিন তীব্র হচ্ছে, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও বাণিজ্য বাধা বাড়ছে, সামরিক জোটগুলোর মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি হচ্ছে এবং দরিদ্র অঞ্চল থেকে ধনী অঞ্চলে অভিবাসনের হারও বেড়ে গেছে—এসব মিলে বিশ্ব পরিস্থিতি দিন দিন অস্থিতিশীল হয়ে উঠছে।”
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের প্রসঙ্গ টেনে অরবান বলেন, “অনেকে শঙ্কা প্রকাশ করছেন—ন্যাটো ও রাশিয়ার মধ্যে যেকোনো সামরিক সংঘর্ষ তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের সূচনা ঘটাতে পারে।”
তবে তার মতে, যদি ডোনাল্ড ট্রাম্প আবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হন, তাহলে বৈশ্বিক সংঘাতের ঝুঁকি কিছুটা কমে আসতে পারে। তবে হুমকি পুরোপুরি শেষ হয়ে যাবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিশ্ব নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত এমন কোনো পদক্ষেপ না নেওয়া, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলতে পারে কিংবা বড় পরিসরের সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে পারে।”
এদিকে, চলমান থাইল্যান্ড-কম্বোডিয়া সঙ্কটের মধ্যস্থতায় এগিয়ে এসেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানান, কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন মানেত এবং থাইল্যান্ডের অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন এবং দুই দেশের মধ্যে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছেন।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, “আমি কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে অত্যন্ত ভালো আলোচনা করেছি। তাকে জানিয়েছি, আমি থাইল্যান্ডের অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেও কথা বলেছি। উভয় পক্ষই শান্তি চায় এবং অবিলম্বে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “দুই দেশই আবার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনায় ফিরতে চায়, তবে সংঘাত বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত আমরা তা উপযুক্ত মনে করি না।”
ট্রাম্প আশা প্রকাশ করে বলেন, “এই দুই দেশের গৌরবময় ইতিহাস ও সংস্কৃতি রয়েছে। ভবিষ্যতে তারা শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে থাকবে বলে বিশ্বাস করি। সংঘাত নিরসনের পর যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।”
প্রসঙ্গত, গত ২৪ জুলাই সকালে কম্বোডিয়ার ওড্ডার মিনচি প্রদেশের বিতর্কিত সীমান্ত এলাকায় থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার মধ্যে সশস্ত্র সংঘর্ষ শুরু হয়। থাই সামরিক বাহিনী অভিযোগ করে, কম্বোডিয়ার সেনারা থাই আবাসিক ভবন ও একটি হাসপাতাল লক্ষ্য করে ভারী অস্ত্র ব্যবহার করলে তারা পাল্টা হামলায় যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সংঘর্ষ এবং সাম্প্রতিক বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিশ্ব রাজনীতিকে আরও অস্থির করে তুলছে। যুদ্ধবিরতির আহ্বান ও আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক উদ্যোগ এখন সময়ের চাহিদা হয়ে উঠেছে।








