পথে প্রান্তরে ডিজিটাল ডেস্ক:
অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় দুর্ভিক্ষ পরিস্থিতিকে ‘প্রতিরোধযোগ্য’ উল্লেখ করে তা বন্ধে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। স্থানীয় সময় সোমবার (২৮ জুলাই) এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ আহ্বান জানান।
মার্কিন সংবাদমাধ্যমের একটি প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে ওবামা লেখেন, “গাজা সংকটের স্থায়ী সমাধানের জন্য অবশ্যই সব জিম্মিকে ফিরিয়ে আনতে হবে এবং ইসরায়েলের সামরিক অভিযান বন্ধ করতে হবে— তবে এই নিবন্ধগুলো নিরীহ মানুষের অনাহারে মৃত্যুর মতো ট্র্যাজেডি ঠেকাতে অবিলম্বে পদক্ষেপ নেওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরে।”
তিনি জোর দিয়ে বলেন, “গাজার মানুষের কাছে ত্রাণ পৌঁছাতে অনুমতি দিতে হবে। খাবার ও পানি থেকে বেসামরিক জনগণকে বঞ্চিত করার কোনো যৌক্তিকতা নেই।”
এর আগে রোববার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানায়, গাজায় অপুষ্টির হার ‘উদ্বেগজনক পর্যায়ে’ পৌঁছেছে। সংস্থাটি আরও জানায়, সহায়তার ওপর ‘ইচ্ছাকৃত বাধা’ সম্পূর্ণ প্রতিরোধযোগ্য হলেও এর ফলে বহু প্রাণহানি ঘটেছে। এ বছরের অপুষ্টিজনিত ৭৪টি মৃত্যুর মধ্যে ৬৩টি ঘটেছে শুধু জুলাই মাসেই। মৃতদের মধ্যে রয়েছে ২৪ জন পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু, একজন শিশু (পাঁচ বছরের বেশি বয়সী) ও ৩৮ জন প্রাপ্তবয়স্ক।
ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, গাজায় এখন প্রতি পাঁচজন শিশুর মধ্যে একজন তীব্র অপুষ্টিতে ভুগছে। জুন মাসের পর থেকে চার থেকে ছয় বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে অপুষ্টির হার তিনগুণ বেড়েছে।
আন্তর্জাতিক চাপ ও ১০ ঘণ্টার সাময়িক যুদ্ধবিরতি
গাজায় দুর্ভিক্ষ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে আসছে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা। গত বুধবার শতাধিক মানবাধিকার সংস্থা জানিয়েছিল, উপত্যকাজুড়ে ব্যাপকভাবে দুর্ভিক্ষ ছড়িয়ে পড়ছে। একইসঙ্গে ইসরায়েলের প্রতি হামলা বন্ধের আহ্বান জানায় যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানি।
আন্তর্জাতিক চাপের মুখে ইসরায়েলি বাহিনী সোমবার ঘোষণা দেয়, গাজার কিছু এলাকায় প্রতিদিন ১০ ঘণ্টার জন্য সামরিক অভিযান সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হবে। ফরাসি সংবাদমাধ্যম এএফপির বরাতে জানা গেছে, আল-মাওয়াসি, দেইর আল-বালাহ ও গাজা শহরের কিছু অংশে সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত কোনো হামলা চালানো হবে না। এই সময়ের মধ্যে জাতিসংঘ ও ত্রাণ সংস্থাগুলো নিরাপদে সড়কপথে ত্রাণ সরবরাহ করতে পারবে।
বারাক ওবামার সতর্কবার্তা ও আন্তর্জাতিক চাপ সত্ত্বেও গাজায় মানবিক পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতির আশা এখনো অনিশ্চিত। তবে সাময়িক যুদ্ধবিরতি ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সক্রিয়তা হয়তো দুর্ভিক্ষ মোকাবিলায় কিছুটা হলেও আশার আলো দেখাচ্ছে।








