হিমালয় সুমু, পথে প্রান্তরে:
সাহিল ফারাবি আয়ান।
মাত্র ১৪ বছর বয়স।
মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ইংরেজি ভার্সনের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র।
প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমানের ভয়াবহ আগুনে দগ্ধ হয়ে রোববার দিবাগত রাত ১টা ৪৫ মিনিটে জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করল সে।
সেদিন (২১ জুলাই) ঘুম ভাঙার পর কি তুমি মা’কে কিছু বলেছিলে, আয়ান?
“মা, আজকে স্কুলে একটু আগেই যাব। মিস বলেছে প্রেজেন্টেশন দিতে হবে।”
এইটুকু বলেই কি তুমি বেরিয়ে পড়েছিলে? ব্যাগে বই ছিল, খাতাও ছিল, হয়তো মাঝখানে একটা টিফিনের প্যাকেট। ছিল না শুধু ভয়াবহ ভবিষ্যৎ দেখাটা।
কে জানত, যে শিশুটা সকালে স্কুলের পথে হাঁটছিল, দুপুরের পর তার গায়ে আগুন জ্বলবে!
কে জানত, একটা যুদ্ধবিমান পুড়িয়ে দেবে তার ছোট্ট স্বপ্নগুলোকে?
জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক ডা. শাওন বিন রহমান জানিয়েছেন—
“৪০ শতাংশ দগ্ধ ছিল ছেলেটি। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি।”
চোখ ভিজে আসে…
যুদ্ধবিমান যখন আকাশে উড়ে, শিশুরা তাকিয়ে থাকে বিস্ময়ে।
ওরা ভাবেও না, সেই আকাশ থেকেই আগুন নেমে আসতে পারে একদিন।
যেই আগুন ছুঁয়ে যাবে তাদের শিরায় শিরায়।
আর তারপর—
একটি হৃদয় বিদারক বিদায়।
মাইলস্টোন স্কুলটা এখন আর আগের মতো নেই।
শ্রেণিকক্ষে আয়ানের চেয়ারটা খালি থাকবে না হয়তো।
হয়তো ওর বেঁচে থাকা বন্ধুরা তাকিয়ে থাকবে ওখানে আর ভাববে, আয়ান এইখানে বসতো।
হ্যাঁ, মাইলস্টোনে আরও এক মৃত্যুর খবর এসেছে।
এই নিয়ে জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে মৃত্যুর সংখ্যা ১৮।
ঢাকা মেডিকেলেও মারা গেছে আরও একজন।
আয়ান, তুমি চলে গেছো…
তোমার বাসার পড়ার টেবিলটা রয়ে গেছে।
হয়তো তোমার খাতার এক কোণে এখনো লেখা—
“I want to be a pilot one day.”
ভালো থেকো আকাশের ওপারে, আয়ান।
তুমি আর কখনো দগ্ধ হবে না।
তোমার স্বপ্নগুলোকে আর কোনো আগুনই ছুঁতে পারবে না।
তুমি এখন মুক্ত—আলোয়, হাওয়ায়, দোয়ায়…
তোমার জন্য কাঁদছি আমরা, ছোট্ট বন্ধু।








