,

চাঁদাবাজের অভয়াশ্রম এনসিপিতে হবে না: ময়মনসিংহে হাসনাত আব্দুল্লাহ

জেলা প্রতিনিধি ময়মনসিংহ:

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মূখ্য সংগঠক নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী বলেছেন,
প্রিয় ময়মনসিংহবাসী যখন খুনি হাসিনা আমাদের ওপর গুলি চালিয়েছিল, আমরা কি গুলির মধ্যে ওয়াকআউট করেছিলাম? শহীদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে যখন আমরা নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখছি, শহীদ এবং আহতদের স্মরণে নতুন বাংলাদেশ গড়তে যাচ্ছি তখন একটি দল ওয়াক আউট করার চেষ্টা চালাচ্ছে। আপনারা এসেছেন আমরা স্বাগত জানিয়েছি। আপনারা শহীদদের রক্তের সাথে ওয়াক আউট করতে পারেন না।

সোমবার (২৮ জুলাই) বিকাল ৫ টায় ময়মনসিংহ নগরীর টাউন হল মোড়ে শহীদ মিনার চত্বরে এনসিপির কেন্দ্রীয় পদযাত্রা শেষে বক্তব্য এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, শহীদ ও আহতদের পরিবারের সাথে কথা বলেছি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তারা কোনো সহযোগিতা পাচ্ছে না। আমাদের সামনে এখন একটি লক্ষ্য, পুরো বাংলাদেশের সংস্কার। এ সময় তিনি স্লোগান দেন, এই মুহূর্তে দরকার বিচার আর সংস্কার।

এ সময় তিনি তার বামে ও ডানে থাকা নাহিদ হোসেন ও হাসনাত আব্দুল্লাহর হাত উঁচু করে বলেন, এই দুটো হাতকে আপনারা শক্তিশালী করুন। এরা দুজন কখনো আপনাদের ছেড়ে যাবে না। এরাই নতুন বাংলাদেশ নির্মাণ করবে।

মূখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, আমরা সব সময় চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কথা বলি। কিন্তু দুঃখের বিষয় একটি গোষ্ঠী আমাদের নাম পরিচয় ব্যবহার করে চাঁদাবাজিতে লিপ্ত হচ্ছে। আমাদের নেতাকর্মী যারা আছেন তার মুখে মুখে বলেন নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত, কিন্তু আপনারাই করেন চাঁদাবাজি। এগুলো আমরা বরদাস্ত করবো না।

তিনি আরও বলেন, আমাদের লক্ষ লক্ষ কর্মী দরকার নাই। চাঁদাবাজের অভয়াশ্রম এনসিপিতে হবে না। প্রিয় ময়মনসিংহবাসী সংগঠনকে শক্তিশালী করতে হবে। প্রতিটি ইউনিয়ন এবং থানা লেভেলে প্রতিটি ঘরে ঘরে আপনারা যাবেন। সবাইকে গিয়ে বুঝাবেন নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখাবেন। আপনারা নিজের টাকায় প্রোগ্রাম করেছেন। আমাদের দল থেকে কোনরূপ সহযোগিতা করা হয়নি। সামনে রাজনীতি করতে হলে নিজেদের পকেটের টাকা খরচ করে জনগণকে বুঝাতে হবে। এই দেশ শতকোনে আপনাদেরকে ফিরিয়ে দিবে। প্রতিটি ঘরে ঘরে গিয়ে সবাইকে এনসিপির প্রয়োজনীয়তা বোঝাবেন।

জাতীয় নাগরিক পার্টির আহবায়ক নাহিদ ইসলাম তার ভাষণে বলেন, ময়মনসিংহ জেলা প্রকৃতপক্ষে ব্রিটিশ শাসনামল থেকে জমিদারি প্রথা ও ঔপনিবেশিকদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন কৃষক আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র বা ‘সূতিকাগার’ হিসেবে পরিচিত। আমরা সেই কৃষকের সন্তান। আমাদের বাবারা পরিশ্রমের টাকায় আমাদেরকে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে পাঠিয়েছে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে কি দেখলাম? পড়া শেষ করে আমাদের কোন চাকরি নেই। আমাদের সাথে চরম বৈষম্য হচ্ছে। চাকরিতে কোটা প্রথা চালু ছিল। এই কোটার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে গিয়ে আমাদের শত শত ছাত্র শহীদ হলেন।

তিনি বলেন, পড়ালেখা শেষ করে ময়মনসিংহের ছাত্ররা কোন কাজকর্ম করতে পারে না এখানে। চাকরি এবং কাজের সন্ধানে ময়মনসিংহ অঞ্চলের বাসিন্দাদের গাজীপুর টঙ্গী উত্তরায় কাজ করতে যেতে হয়। রিক্সাওয়ালা, দিনমজুর, ছাত্র ও গার্মেন্টস কর্মী উত্তরা ও টঙ্গী এলাকায় বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে গিয়ে শহীদ হন। তাদের মধ্যে ময়মনসিংহ জেলার ৪১ জন শহীদ হয়েছেন।

তিনি বলেন, শেখ হাসিনা সরকার শুধুমাত্র গণতন্ত্রকে ধ্বংস করেনি। তারা পরিবেশের প্রাণ নদীগুলোকে ধ্বংস করে দিয়েছে। আমরা সেই নদীগুলোকে পুনরুদ্ধার করতে চাই। আমরা পরিবেশবান্ধব উন্নয়নের পাশাপাশি সুষম বন্টন করতে চাই। ময়মনসিংহ সংস্কৃতির জেলা। ছোটবেলা থেকেই ময়মনসিংহ অঞ্চলের বিভিন্ন লোকজ গান শুনে বড় হয়েছে। এ সময় তিনি ময়মনসিংহের কৃতি সন্তান আবুল মনসুর আহমেদের কথা স্মরণ করেন।

সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা বলেছেন, আমরা পদযাত্রা উপলক্ষে প্রতিটি জেলায় গিয়ে অনেক ভালোবাসা পাচ্ছি। বিভাগীয় শহর হিসেবে ময়মনসিংহ অঞ্চলের মানুষ অনেক বঞ্চিত ছিল। আমরা যে বিচার ও সংস্কারের দাবি নিয়ে সামনে আগাচ্ছি আশা করি আপনাদেরকে আমরা সাথে পাবো।

যে শহীদরা ফ্যাসিস্টের বিরুদ্ধে বুকের তাজা রক্ত বিলিয়ে দিয়েছিল আমরা যাতে তাদের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে পারি। আমরা যাতে শুধুমাত্র পট পরিবর্তন এর মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকি। প্রকৃতপক্ষে যাতে সংস্কার হয়, আর দেশটা যাতে সকল নাগরিকের সমান অধিকারের পরিপূর্ণ হয় সেদিকে আমাদের নজর রাখতে হবে। সেজন্য আমাদের দরকার একটি নতুন সংবিধান।

তিনি আরও বলেন, যে সংবিধান কোন ব্যক্তি গোষ্ঠী বা প্রতিষ্ঠানের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করে সে সংবিধানে আমরা আর ফেরত যাবো না। এজন্য আমাদের অনেক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে।

দেশ গড়তে জুলাই পথযাত্রা স্লোগানে অনুষ্ঠিত এ মঞ্চে কেন্দ্রীয় যুগ্ন আহবায়ক ও ময়মনসিংহ জেলার প্রধান সমন্বয়কারী জাভেদ রাসিনের সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় সংগঠক আবুল বাশার, ইকরাম এলাহী খান, এটিএম মাহবুবুল আলম, আশিকুর রহমান প্রমুখ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এই বিভাগের আরও সংবাদ >

সর্বশেষঃ