ব্যুরো চীফ, বরিশাল:
নির্বাচনের দিন ভোটকেন্দ্র দখলের উদ্দেশ্যে ভাড়াটে বোমা প্রস্তুতকারকদের নিয়ে গোপন স্থানে বোমা তৈরি করতে গিয়ে ভয়াবহ বিস্ফোরণে দুইজন নিহত হন। দীর্ঘ ১৩ মাস পর ঘটনাটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড দাবি করে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন নিহত এক ব্যক্তির স্বজন।
বরিশালের বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-১–এ দায়ের করা মামলাটি আদালত গৌরনদী মডেল থানাকে এজাহারভুক্ত করার নির্দেশ দিলে তদন্ত কাজ শুরু হয় বলে জানান ওসি মো. তরিকুল ইসলাম।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২৩ জুন গভীর রাতে বরিশালের গৌরনদী উপজেলার ধানডোবা গ্রামের একটি পান বরজে বোমা তৈরি করতে গিয়ে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই অজ্ঞাত পরিচয়ের একজন নিহত হন এবং গুরুতর আহত হন পূর্ব তয়কা গ্রামের কামাল বেপারী। পরবর্তীতে তাঁকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করা হয় এবং হাসপাতালে ভর্তি অবস্থায় ২ জুলাই তাঁর মৃত্যু হয়।
নিহত কামাল বেপারীর চাচাতো ভাই দুলাল বালী আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। তিনি অভিযোগ করেন, তাঁর ভাইকে কৌশলে ঘটনাস্থলে এনে বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।
মামলায় অভিযুক্ত সাতজন হলেন—চিঠিরচর গ্রামের আব্বাস শিকদার, করমজা গ্রামের নুরুল ইসলাম, সাহেবেরচরের আবু হানিফ, চিঠিরচরের শাহিন ও আনু শিকদার, খুনেরচরের ওহিদুল বালী এবং তয়কার লেলিন আকন।
এছাড়া অজ্ঞাত আরও ৪/৫ জনকেও আসামি করা হয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়, ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন গৌরনদী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের সময়কার চেয়ারম্যান প্রার্থী হারিছুর রহমান, যিনি তৎকালীন সংসদ সদস্য ও বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নে আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর ঘনিষ্ঠ সহযোগী। তাঁর হয়ে কাজ করতেন নিহত আব্বাস শিকদারের ভাই আলতাফ হোসেন, যিনি ওই সংসদ সদস্যের গানম্যান ছিলেন।
পরাজয়ের শঙ্কায় থাকা হারিছুর রহমান ভোটকেন্দ্র দখলের জন্য বোমা তৈরির পরিকল্পনা করেন। তাঁর নির্দেশে আব্বাস শিকদার ভাড়াটে কারিগরদের নিয়ে আসে এবং স্থানীয় ইউপি সদস্য শিমুলের বাড়িতে আশ্রয় দিয়ে ওই বরজে বোমা তৈরি শুরু করে।
এ সময় বিস্ফোরণে একজন মারা যান ও কামাল বেপারী মারাত্মক আহত হন। এরপর তাঁকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়। আহত কামালকে গোপনে ঢাকায় চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
বাদীর অভিযোগ, প্রধান আসামি ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী হওয়ায় এতদিন মামলা দায়েরের সাহস পাননি তাঁরা। সরকার পরিবর্তনের পর থানায় মামলা দায়ের করতে গেলে আদালতের শরণাপন্ন হতে বলা হয়।
ঘটনার আরেকজন নিহত ব্যক্তি ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার শীতলতলা এলাকার কাঞ্চন মাঝির ছেলে জাহাঙ্গীর মাঝি বলে জানা গেছে।
অভিযোগ রয়েছে, ঘটনার পর তৎকালীন ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক নেতার প্রভাব ও মোটা অঙ্কের ঘুষের মাধ্যমে পুরো ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। ফলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
গৌরনদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শারমিন সুলতানা রাখি জানান, আদালতের নির্দেশে ২১ জুলাই মামলাটি এজাহারভুক্ত করা হয়েছে। তদন্ত শুরু হয়েছে। যদিও ঘটনাটি অনেক পুরোনো, তবু দ্রুত অগ্রগতি আশা করা হচ্ছে।








