,

জুলাই আন্দোলন নিয়ে বিস্ফোরক জবানবন্দি দিলেন সাবেক আইজিপি মামুন

পথে প্রান্তরে ডিজিটাল ডেস্ক:

ছাত্র-জনতার গণ-আন্দোলনে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর গ্রেপ্তার হন তৎকালীন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের এক মামলায় তিনি ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে পাঁচ পৃষ্ঠার একটি বিস্ফোরক জবানবন্দি দিয়েছেন, যেখানে ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচন, গুম-খুন এবং আলোচিত জুলাই আন্দোলন দমন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরেন।

জবানবন্দিতে মামুন জানান, ১৯ জুলাই থেকে প্রতি রাতেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের ধানমন্ডির বাসায় নিয়মিত বৈঠক হতো। এসব বৈঠকে অংশ নিতেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দুই সচিব, এনএসআই প্রধান মনিরুল ইসলাম, ডিবির তৎকালীন প্রধান হারুন অর রশীদ, র‌্যাবের মহাপরিচালক, আনসার ও ভিডিপির ডিজি এবং এনটিএমসির তৎকালীন প্রধান জিয়াউল আহসান। আন্দোলন দমন সংক্রান্ত সকল সিদ্ধান্ত-নির্দেশনা এখান থেকেই দেওয়া হতো।

তিনি আরও বলেন, একটি কোর কমিটির বৈঠকে ছাত্র আন্দোলনের ছয়জন মূল সমন্বয়ককে গ্রেপ্তারের সিদ্ধান্ত হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে গিয়ে মানসিক চাপ প্রয়োগ করা হয়, যাতে তারা আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন। মামুনের ভাষায়, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হারুন অর রশীদকে ‘জনাব’ বলে সম্বোধন করতেন, কারণ রাজনৈতিক নির্দেশ বাস্তবায়নে তিনি ছিলেন অত্যন্ত কার্যকর।

হেলিকপ্টার ব্যবহার এবং গুলি চালানোর বিষয়ে মামুন বলেন, আন্দোলনকারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়াতে এবং নজরদারির জন্য রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে হেলিকপ্টার মোতায়েন করা হয়। এই সিদ্ধান্তের নেতৃত্ব দেন তৎকালীন র‌্যাব ডিজি হারুন অর রশীদ।

মামুন দাবি করেন, ব্লক রেইড ও মারণাস্ত্র ব্যবহারের সিদ্ধান্ত ছিল সরাসরি রাজনৈতিক। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাকে নিজে জানিয়েছেন, এসব প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশেই হচ্ছে। ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান ও ডিবির প্রধান হারুন অর রশীদ নৃশংস অস্ত্র ব্যবহারে আগ্রহী ছিলেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

জবানবন্দিতে আরও উঠে আসে, আন্দোলন দমন করতে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তি সরাসরি মারণাস্ত্র ব্যবহারের পরামর্শ ও উসকানি দিয়েছেন।

সরকার পতনের দিন— ৫ আগস্ট বিকেলের ঘটনাও তুলে ধরেন মামুন। জানান, সেদিন বিকেলে পুলিশ সদরদপ্তরে একটি হেলিকপ্টার অবতরণ করে। তিনি তাতে উঠে তেজগাঁও বিমানবন্দরে যান এবং সেখান থেকে সরাসরি সেনানিবাসে আশ্রয় নেন।

জবানবন্দির শেষাংশে আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি চালিয়ে হতাহতের ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেন মামুন। তিনি আদালতের কাছে ক্ষমাও চান, তবে সরাসরি কোনো হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেন। জানান, কেবল বৈঠকে অংশগ্রহণ করেছিলেন।

ট্রাইব্যুনাল ইতোমধ্যে চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনকে আসামি থেকে রাজসাক্ষী হিসেবে গ্রহণ করেছে। সত্য প্রকাশের শর্তে তার রাজসাক্ষীর আবেদন মঞ্জুর করা হয়েছে। এখন অপেক্ষা— কবে তিনি আদালতে আনুষ্ঠানিকভাবে রাজসাক্ষীর জবানবন্দি দেবেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এই বিভাগের আরও সংবাদ >

সর্বশেষঃ