পথে প্রান্তরে ডিজিটাল ডেস্ক:
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম নিউজ ১৮–এর এক প্রতিবেদন ঘিরে নতুন করে বিতর্কে জড়িয়েছেন বাংলাদেশের আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। প্রতিবেদনটিতে দাবি করা হয়েছে, টেলিগ্রাম প্ল্যাটফর্মে অনুমোদনহীন রাজনৈতিক গ্রুপ পরিচালনা, অর্থ সংগ্রহ এবং চাঁদাবাজির মতো অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন তিনি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে দলটি নিষিদ্ধ ঘোষিত হওয়ার পর আওয়ামী লীগের ভার্চুয়াল কর্মকাণ্ড এখন টেলিগ্রাম নির্ভর হয়ে পড়েছে। ভারতে রাজনৈতিক আশ্রয়ে থাকা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে টেলিগ্রামেই গড়ে উঠেছে একটি সংগঠনিক কাঠামো। কিছু গ্রুপে সদস্যসংখ্যা ২০ হাজার ছাড়িয়েছে। প্রতি রাতেই টেলিগ্রামে বসে ভার্চুয়াল সভা, যেখানে অংশ নিচ্ছেন কেন্দ্রীয় নেতাসহ বিভিন্ন স্তরের সাংগঠনিক ব্যক্তিত্বরা।
নিউজ ১৮ জানিয়েছে, শেখ হাসিনার ভার্চুয়াল উপস্থিতিতে কথোপকথনের সুযোগ পেতে দলের নেতা-কর্মীদের অর্থ লেনদেন করতে হয়। এই অভিযোগের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ওবায়দুল কাদের। দলের ভেতরের একাধিক সূত্রের দাবি, টেলিগ্রামের এসব গ্রুপ তিনি নিজেই পরিচালনা করছেন এবং সেইসঙ্গে অর্থ আদায়ের একটি গোপন নেটওয়ার্কও পরিচালনা করছেন।
প্রতিদিন একাধিক টেলিগ্রাম গ্রুপে নিজে কথা বলেন ওবায়দুল কাদের। ‘ঢাকা ঘেরাও’-এর মতো হুঁশিয়ারি দিলেও বাস্তব পরিকল্পনার অভাব রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
আওয়ামী লীগের এক সিনিয়র নেতা নিউজ ১৮–কে জানান, “ওবায়দুল কাদেরকে এখন নেতাকর্মীরা গ্রহণ করছেন না। তিনি টেলিগ্রামে অসংখ্য গ্রুপ গড়ে তুলেছেন, যা আদতে অর্থ উপার্জনের ফাঁদ। দলীয় কার্যক্রমের আড়ালে ব্যক্তিগতভাবে সিনিয়র নেতাদের কাছ থেকেও অর্থ নিয়েছেন তিনি। অনেকেই টাকা দিয়ে শেখ হাসিনার টেলিগ্রাম সেশনে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন।”
প্রসঙ্গত, আগামী ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার ভারতে রাজনৈতিক আশ্রয় নেওয়ার এক বছর পূর্ণ হতে যাচ্ছে। তার আগেই দলের ভেতরে এই ধরনের অস্থিরতা আওয়ামী লীগের সামনে নতুন সংকট তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
এই প্রতিবেদন নিয়ে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।








