ব্যুরো চীফ, বরিশাল:
বরিশালে এক নববধূকে অপহরণ করে ১৮ দিন আটকে রেখে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) বিকেলে বরিশালের মুলাদী উপজেলার সফিপুর ইউনিয়নের চরমালিয়া এলাকা থেকে ওই নববধূকে উদ্ধার করা হয়।
এর আগে গত ১৩ জুলাই বিকেলে চরকালেখান মাদ্রাসা বাজার এলাকা থেকে নববধূকে অপহরণ করা হয়।
সফিপুর ইউনিয়নের চরমালিয়া গ্রামের করিম সরদারের ছেলে শরীফ হোসেন ও তাঁর সহযোগীরা ওই নববধূকে অপহরণ করে।
এ অভিযোগ এনে অপহৃতা নববধূর মা বাদী হয়ে গত ১৪ জুলাই মুলাদী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
নববধূর মা জানান, বিয়ের আগে থেকেই শরীফ হোসেন প্রেমের প্রস্তাবসহ বিভিন্নভাবে তাঁর মেয়েকে উত্ত্যক্ত করে আসছিলো।
একপর্যায়ে নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে মেয়ের সম্মতিতে গত ১০ জুন তাকে বিয়ে দেয়া হয়।
তিনি আরো জানান, গত ১৩ জুলাই বিকেলে চরকালেখান মাদ্রাসা বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে একই গ্রামের শরীফ ও তাঁর সহযোগীরা জোরপূর্বক নববধূকে অপহরন করে নিয়ে যায়।
পরে শরীফ ওইদিন রাতেই জোরপূর্বক নববধূকে বিয়ের চেষ্টা করে।
বিয়েতে রাজি না হওয়ায় শরীফ ১৮ দিন অপহৃতাকে বিভিন্নস্থানে আটকে রেখে ধর্ষণ করে।
নববধূর মা আরো জানান, ঘটনার পরপরই শরীফ হোসেন অপহৃতা নববধূর সাথে সাজানো বিয়ের ঘটনার একটি ভিডিও জনৈক যুবকের কাছে পাঠায়।
ওই যুবক বিষয়টি নববধূর মা-বাবাকে জানালে তাঁরা অপহরণকারী সম্পর্কে নিশ্চিত হন।
পরেরদিন ১৪ জুলাই নববধূর মা বাদী হয়ে শরীফ হোসেনসহ আটজনের বিরুদ্ধে মুলাদী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
মুলাদী থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মনির হোসেন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিত্বে আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে চরমালিয়া এলাকা থেকে নববধূকে উদ্ধার করেন।
এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অপহরনকারী শরীফ ও তার সহযোগীরা পালিয়ে যায়।
মুলাদী থানার ওসি মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, অপহৃতা নববধূকে উদ্ধারের পর মেডিক্যাল পরীক্ষার জন্য তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসিতে) পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
পাশাপাশি আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।








