জাহিদুল ইসলাম দুর্গাপুর (রাজশাহী) প্রতিনিধিঃ
রাজশাহীর ঐতিহাসিক হোজা নদী আজ দখলদার ও ভূমিদস্যুদের করালগ্রাসে বিপন্ন। নদীর প্রাণ ছিল যে প্রবাহ, সে আজ মৃতপ্রায়। নদীর সৌন্দর্য, নৌ চলাচল আর জেলেদের জীবনযাত্রা এখন শুধুই স্মৃতি।
একসময়ের খরস্রোতা হোজা নদীতে পালতোলা বড় নৌকা, রঙিন ডিঙ্গি ও পানসি চলতো অবাধে। নদী ছিল জীবিকার উৎস, প্রকৃতির অনন্য উপহার। অথচ এখন নদীর অস্তিত্বটুকুই শুধু রয়ে গেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিভিন্ন এলাকায় নদীতে ময়লা-আবর্জনা ফেলে দখলদাররা জায়গা দখল করে নিয়েছে। পানি কম থাকায় শীতকালে দখলের প্রবণতা আরও বেড়ে যায়। অনেক স্থানে নদীর দুই পাড়ে গড়ে উঠেছে অবৈধ স্থাপনা। আবার কোথাও স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেরাই নদীতে বাঁধ দিয়ে পানি আটকে রাখছেন, যার ফলে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।
নদীর পাড়ের বাসিন্দা কাঞ্চন আলী বলেন, “এই নদীতে মাছ ধরে সংসার চলত। শোল, গজাড়, শিং, কই, টেংরা, পুঁঠি – কী মাছই না ছিল! এখন শুধু ময়লা আর দুর্গন্ধ।”
দূষণের কারণে দেশি মাছের অস্তিত্ব প্রায় বিলুপ্ত। পানি হয়ে উঠেছে ব্যবহার অনুপযোগী।
বিশেষ সূত্র জানায়, জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের উদ্যোগে ২০১৮ ও ২০১৯ সালে দেশের ৬৪ জেলায় ৫৭ হাজার ৩৯০ জন অবৈধ নদী দখলদারের তালিকা তৈরি করা হয়। এর মধ্যে প্রায় ১৮ হাজার ৫২০ জনকে উচ্ছেদ করা হলেও, হোজা নদীসহ অনেক ছোট নদী পুনরুদ্ধারের কাজ করোনা মহামারির কারণে থেমে যায়।
হোজা নদীর দৈর্ঘ্য প্রায় ৩০ কিলোমিটার। এর মধ্যে ১৫ কিলোমিটার এলাকায় পানি প্রবাহ প্রায় নেই বললেই চলে।
সাধারণ মানুষ ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা দ্রুত নদী সংস্কার, অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং দূষণ রোধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তারা বলছেন, এখনই ব্যবস্থা না নিলে এই নদী হারিয়ে যাবে ইতিহাসের পাতায়।








