তিমির বনিক, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:
মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার শিমুলিয়া এলাকায় সংঘটিত ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িত দুইজনকে সিলেট মহানগরীর শাহপরাণ থানা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে বড়লেখা থানা পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে ছিনতাইকৃত নগদ টাকা, মোবাইল ফোন, দেশীয় অস্ত্র, মোটরসাইকেল, হেলমেট ও অপরাধকালে ব্যবহৃত পোশাক উদ্ধার করা হয়েছে।
মামলার বাদী আব্দুল আহাদ জানান, গত ৩০ জুলাই দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তিনি বড়লেখার পূবালী ব্যাংক শাখা থেকে ২ লাখ টাকা উত্তোলন করেন। সেইসঙ্গে তাঁর মেয়ে সুহাদা আক্তারের ভ্যানিটি ব্যাগে রাখা আরও ১৬ হাজার টাকা—মোট ২ লাখ ১৬ হাজার টাকা নিয়ে মোটরসাইকেলে করে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে শিমুলিয়া এলাকায় পৌঁছালে দুটি মোটরসাইকেলযোগে চারজন দস্যু তাদের গতিরোধ করে। বাদী ও তার মেয়ের গলায় ধারালো দা ধরে ভয়ভীতি দেখিয়ে মেয়ের ভ্যানিটি ব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। ব্যাগের মধ্যে ছিল নগদ ২ লাখ ১৬ হাজার টাকা, একটি স্যামসাং স্মার্টফোন, দুই ভরি রুপার চেইন এবং জাতীয় পরিচয়পত্রের স্মার্ট কার্ড।
এ ঘটনায় ভিকটিমের অভিযোগের ভিত্তিতে বড়লেখা থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয় (মামলা নম্বর ১৭, তারিখ: ৩০/০৭/২০২৫, ধারা: ৩৪১/৩৯২ দণ্ডবিধি)। এরপর পুলিশ সুপার (অতিরিক্ত, অপরাধ ও অপস) নোবেল চাকমা ও কুলাউড়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ আজমল হোসেনের তত্ত্বাবধানে ওসি মোঃ মাহবুবুর রহমান মোল্লার নেতৃত্বে বড়লেখা থানার এসআই রতন কুমার হালদার, এসআই সুব্রত চন্দ্র দাস, এএসআই ফজলে আজিম ও এএসআই সুলতানসহ একটি বিশেষ টিম গঠন করে তদন্ত শুরু করা হয়।
তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে ছিনতাইকারীদের শনাক্ত করার পর ১ আগস্ট সিলেট মহানগরীর শাহপরাণ থানাধীন কাজিরবাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—
- সেলিম আহমদ ওরফে অনিক (৩৭), পিতাঃ ৫ ভটলা, সাংঃ কুলাউড়া, থানা- কুলাউড়া, জেলা- মৌলভীবাজার। বর্তমান ঠিকানাঃ টিকর পাড়া (পীরেরবাজার), থানা- শাহপরান, এসএমপি, সিলেট।
- সাকিব আহমদ (২৫), পিতাঃ মৃত মানিক মিয়া, সাংঃ মির মহল্লা, থানা- শাহপরান, এসএমপি, সিলেট। বর্তমান ঠিকানাঃ টিকর পাড়া (পীরেরবাজার), সিলেট।
তাদের হেফাজত থেকে উদ্ধার করা হয়—
১। নগদ ৯৯,৫০০ টাকা
২। ভিকটিমের স্যামসাং স্মার্টফোন
৩। দস্যুতায় ব্যবহৃত ধারালো একটি দা
৪। TVS Apache RTR 150cc মোটরসাইকেল ও একটি কালো হেলমেট
৫। ছিনতাইয়ের সময় পরিহিত টি-শার্ট ও গেঞ্জি
গ্রেপ্তারকৃতরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ছিনতাইয়ের ঘটনার সাথে জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছে এবং মামলার বাদীও তাদের শনাক্ত করেছেন। তারা আরও কয়েকজন সহযোগীর নাম-ঠিকানা প্রকাশ করেছে, যাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।








