স্টাফ রিপোর্টার, পার্বত্যাঞ্চল:
দেশের স্বাদু পানির বৃহত্তম মৎস্যভান্ডার রাঙ্গামাটির কাপ্তাই হ্রদে টানা ৯৪ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে মাছ শিকার শুরু হয়েছে। রোববার (৩ আগস্ট) প্রথমদিনেই হ্রদ থেকে প্রায় ৭০ টন মাছ আহরণ করা হয়েছে, যার বাজারমূল্য আনুমানিক আড়াই কোটি টাকা।
মাছ শিকারের এই শুরুতে রাঙ্গামাটির ২৭ হাজার জেলের মধ্যে উৎসাহ ও কর্মচাঞ্চল্যতা ফিরে এসেছে। জেলেরা নৌকা ও জাল নিয়ে নতুন উদ্দীপনায় হ্রদে মাছ ধরতে নেমে পড়েছেন।
প্রতিবছর মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন নিশ্চিত করতে রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসন এবং কাপ্তাই হ্রদ ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১ মে থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত কাপ্তাই হ্রদে মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি থাকে। এবছরও সেই ধারাবাহিকতায় তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে ৩ আগস্ট মধ্যরাত থেকে মাছ ধরা শুরু হয়।
৭২৫ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই হ্রদ রাঙ্গামাটির আটটি ও খাগড়াছড়ির দুইটি উপজেলা নিয়ে বিস্তৃত। এ বছর হ্রদে প্রায় ৬০ মেট্রিক টন পোনা মাছ অবমুক্ত করা হয়েছে। প্রতিবছর গড়ে ২০ হাজার মেট্রিক টন মাছ এই হ্রদ থেকে আহরণ করা হয়, যার আর্থিক মূল্য হাজার কোটি টাকারও বেশি।
বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি) রাঙ্গামাটি শাখার ব্যবস্থাপক কমান্ডার মোঃ ফয়েজ আল করিম জানান, গত বছর কাপ্তাই হ্রদ থেকে ১৫ কোটি ৫৬ লাখ টাকার রাজস্ব আদায় করা হয়েছে। চলতি বছরে রাজস্ব আরও বাড়বে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তবে এ বিষয়ে ভিন্ন মত পোষণ করেছেন স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ী মাহফুজ আলম। তিনি জানান, এ বছর নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ আরও ১৫ দিন থেকে ১ মাস বাড়ানো উচিত ছিল। কারণ, মাছগুলো এখনো পূর্ণভাবে বড় হওয়ার সময় পায়নি। ফলে পোনা মাছ বেশি ধরা পড়ছে, যা কারও জন্যই কাঙ্ক্ষিত নয়।
স্থানীয় বাসিন্দারাও জানান, কাপ্তাই হ্রদে কোনো মৎস্য গবেষণাগার না থাকায় মাছের সঠিক অবস্থা নির্ণয় সম্ভব হয়নি। ফলে এ বছর ছোট মাছ ধরা পড়ার প্রবণতা বেশি, যা ভবিষ্যতের জন্য উদ্বেগজনক।
তবে সকল বিতর্কের মাঝেই নতুন মৌসুমে মাছ শিকার শুরু হওয়ায় কাপ্তাই হ্রদের পাড়জুড়ে ফিরে এসেছে কর্মব্যস্ততা আর জীবিকার হাসি।








