বুধবার, ৬ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

মৃতপ্রায় শঙ্খনিধি হাউজ আজ কেবলই স্মৃতি

রুবেল ভূঁইয়া, পথে প্রান্তরে:

পুরনো ঢাকার ওয়ারি এলাকার টিপু সুলতান রোডে দাঁড়িয়ে আছে এক সময়ের বিস্ময়জাগানিয়া নান্দনিক স্থাপনা—শঙ্খনিধি হাউজ। ১৯২০ সালের দিকে লালমোহন সাহা বণিক এই প্রাসাদসম অট্টালিকাটি নির্মাণ করেছিলেন। ঔষধ প্রস্তুতকারক হিসেবে পরিচিতি পাওয়া এই ধনাঢ্য ব্যবসায়ী বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছিলেন। তাঁর আরও দুই ভাই ভজহরি সাহা বণিক ও গৌর নিতাই সাহা বণিক—তিনজনেই পরবর্তীতে “শঙ্খনিধি” উপাধি গ্রহণ করেন।

সময় পাল্টেছে, পাল্টেছে ভবনের রূপও। এক সময় বিস্ময়ভরা দৃষ্টিতে যাকে দেখা হতো, সেই ভবন আজ দখল, অনাদর আর অবহেলার বলি। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় শঙ্খনিধি পরিবার ভারতে পাড়ি জমায়। পরে ১৯৮০ সালে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর ভবনটিকে ঐতিহ্যবাহী স্থাপনার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে।

তবে সেই তালিকাভুক্তি ভবনের সৌরভ ধরে রাখতে পারেনি। বর্তমানে ভবনটি ভগ্নপ্রায়। ঝুঁকিপূর্ণ ভবন হিসেবে সতর্কবার্তা টাঙানো হলেও তাতে থেমে নেই মানুষের বসবাস। ভবনের বিভিন্ন অংশে এখন গড়ে উঠেছে গ্যারেজ, দোকানপাট, এমনকি ছোটখাটো ব্যবসাকেন্দ্রও।

নান্দনিকতার প্রতীক হয়ে ওঠা এই স্থাপনাটি আজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে। নানা অব্যবস্থা আর প্রশাসনিক অমনোযোগের কারণে শঙ্খনিধি হাউজ এখন কেবলই ইতিহাসের ভার বহন করা এক মৃতপ্রায় কাঠামো।

যেমনটি ঘটেছে পুরান ঢাকার বহু স্থাপনার ক্ষেত্রে, তেমনি ভবিষ্যতের ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়ার জন্য যেন দিন গুনছে শঙ্খনিধি হাউজও। ঐতিহ্য রক্ষায় দ্রুত উদ্যোগ না নিলে হয়তো একদিন এর অস্তিত্বও বিলীন হয়ে যাবে নগরচিত্র থেকে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এই বিভাগের আরও সংবাদ >

সর্বশেষঃ