শনিবার, ২০শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

রাজধানীর পরিকল্পনায় উপেক্ষিত পরিবেশ ও অর্থনৈতিক খাত

(ছবিঃ ড্যাপ এ প্রদত্ত এলাকা ভিত্তিক ও খাত ভিত্তিক কর্ম-পরিকল্পনা)

মোঃ মাহামুদুর রহমান পাপন, পথে প্রান্তরে:

রাজউক প্রণীত ডিটেইলড এরিয়া প্ল্যান (ড্যাপ) রাজধানী ঢাকার উন্নয়নের জন্য জমি ব্যবহার, ভবন নির্মাণ, পরিবেশ সংরক্ষণ, খাল-নদী রক্ষা, সড়ক ব্যবস্থা, খেলার মাঠ ও উন্মুক্ত স্থান নির্ধারণের মতো বিষয়গুলো নির্ধারণ করে দেওয়ার কথা থাকলেও এতে পরিবেশ ও অর্থনৈতিক খাত উপেক্ষিত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

ড্যাপ মূলত ১৯৯৫ সালে প্রণীত ঢাকা মহানগর উন্নয়ন পরিকল্পনা (DMDP)-এর অংশ, যা ছিল জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (UNDP) সহায়তায় প্রণীত ২০ বছরের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। DMDP তিন স্তরে বিভক্ত ছিল— (১) গঠনগত পরিকল্পনা (Structure Plan) ২০ বছরের জন্য, (২) নগর এলাকা পরিকল্পনা (Urban Area Plan) ৫ বছরের জন্য, এবং (৩) ডিটেইলড এরিয়া প্ল্যান (DAP) নির্দিষ্ট এলাকার জন্য। তবে এখনও পর্যন্ত DMDP গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়নি, যা নগর পরিকল্পনার ক্ষেত্রে একটি বড় ঘাটতি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একটি রাজধানীর উন্নয়ন পরিকল্পনা কেবল ভূমি ব্যবহার বা ভবনের উচ্চতা নির্ধারণের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। বরং পরিবেশ, অর্থনীতি, নগর কৃষি, জলাশয় সংরক্ষণ, সবুজ খোলা স্থান রক্ষা, দুর্যোগ সহনশীল নগরায়ন ও সুশাসনের মতো বিষয়গুলো সমন্বিতভাবে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। অথচ ড্যাপ-এর এলাকা ও খাতভিত্তিক কর্মপরিকল্পনায় এসব খাত প্রায় উপেক্ষিত হয়েছে।

টেকসই উন্নয়নের তিনটি স্তম্ভ— অর্থনীতি, সমাজ ও পরিবেশ— এর মধ্যে দুটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভই ড্যাপে যথাযথভাবে অন্তর্ভুক্ত হয়নি। এর ফলে, পরিকল্পনাটি কার্যকর হলেও টেকসই উন্নয়নের পূর্ণ কাঠামো গড়ে তুলতে ব্যর্থ হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজধানী উন্নয়ন কেবল রাস্তা ও ভবন নির্মাণ নয়; বরং সহনশীল, বাসযোগ্য, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও পরিবেশবান্ধব নগর গড়ে তোলাই হওয়া উচিত মূল লক্ষ্য।

এছাড়া, ড্যাপ প্রণয়নের সময় যে তথ্য-উপাত্ত ব্যবহার করা হয়েছে, তার বেশিরভাগই এক দশক বা তারও বেশি সময় আগের। ফলে বর্তমান জনসংখ্যা ঘনত্ব, পরিবেশগত সংকট, অবকাঠামোগত অবস্থা বা অর্থনৈতিক গতিশীলতার সঙ্গে পরিকল্পনার সামঞ্জস্য নেই। নগর উন্নয়ন একটি চলমান প্রক্রিয়া হলেও পুরনো তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত ড্যাপ বাস্তবায়নের পূর্বেই অনেকাংশে অকার্যকর হয়ে পড়েছে।

বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন, পুরনো তথ্য বাতিল করে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (BBS)-এর হালনাগাদ তথ্য, পরিবেশ সংরক্ষণ বিধিমালা ২০২৩-এর নির্দেশিকা এবং বর্তমান প্রেক্ষাপটের নির্ভরযোগ্য উপাত্তের ভিত্তিতে ড্যাপ পুনর্গঠন করা জরুরি। অন্যথায়, বর্তমান ড্যাপ বাস্তবায়ন হলে তা জনগণের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি করার পাশাপাশি টেকসই রাজধানী গড়ার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এই বিভাগের আরও সংবাদ >

সর্বশেষঃ