পথে প্রান্তরে ডেস্ক:
ছুটিতে বাড়িতে ফেরার পূর্বে ওমানের এয়ারপোর্টে বসে প্রবাসী মো. বাহার উদ্দিন একটি ছবি তুলে নিজের ফেসবুক আইডি থেকে পোস্ট করে লিখেছিলেন “স্বপ্ন যাবে বাড়ি আমার”।
তবে তার সেই স্বপ্ন বাড়িতে ফেরার পথে মর্মান্তিক সড়ক দূর্ঘটনায় স্ত্রী, সন্তানসহ একই পরিবারের সাতজনকে চিরদিনের জন্য হারাতে হয়েছে। ভাগ্যক্রমে বেঁচে আছেন প্রবাসী বাহার উদ্দিন।
জানা গেছে, নোয়াখালীতে একটি মাইক্রোবাসের চালক ঘুমন্ত অবস্থায় গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারালে সেটি রাস্তার পাশে খালে পড়ে সাতজন নিহত হয়েছেন। ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার (৬ আগস্ট) ভোরে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের চন্দ্রগঞ্জপূর্ব বাজার জগদীশপুর এলাকায়।
ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, ভোর ৫ টা ৪০ মিনিটের দিকে মাইক্রোবাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের খালে পরে যায়। খবর পেয়ে সকাল ছয়টার দিকে চৌমুহনী ফায়ার স্টেশনের একটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ শুরু করে।
ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা মো. তালহা বিন জসিম জানান, এই দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত সাতজন নিহত হয়েছেন।
চন্দ্রগঞ্জ হাইওয়ে থানার ওসি মো. মোবারক হোসেন ভূঁইয়া বলেন, পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঢাকা বিমানবন্দর থেকে ওমান প্রবাসী বাহার উদ্দিন নিজ বাড়ির উদ্দেশ্যে ফিরছিলেন। পথিমধ্যে চালক ঘুমিয়ে পড়ায় গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খালে পড়ে যায়। পরবর্তীতে কয়েকজন বের হতে পারলেও সাতজন ভেতরে আটকা পরে মৃত্যুবরন করেন। নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ভাগ্যক্রমে প্রানেবেঁচে ফেরা প্রবাসী বাহার উদ্দিন ও আবদুর রহিম জানান, ঘুম চোখে নিয়ে মাইক্রোবাস চালাচ্ছিল চালক রাসেল। তাকে বার বার বলা সত্বেও তিনি গাড়ি থামিয়ে বিশ্রাম নেয়নি। বাড়ি থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার আগেই ঘুমন্ত চালক গাড়িটি সড়কের পাশে খালে ফেলে দেয়। গাড়িটি তাৎক্ষণিক ডুবেনি, ধীরে ধীরে ডুবছিল। তখন চালককে গাড়ির লক খুলতে বললেও খুলে দেয়নি। তবে সে নিজে গাড়ির কাঁচ নামিয়ে বের হয়ে পালিয়ে যায়। কাউকে বাঁচানোর চেষ্টাও করেনি।
একপর্যায়ে গাড়ি থেকে প্রবাসী বাহার, তার বাবা আব্দুর রহিম, শ্বশুর ইস্কান্দার মীর্জা, ভাবী সুইটি ও শ্যালক রিয়াজ বের হয়ে আসে। তবে বাঁচতে পারেনি বাহারের স্ত্রী কবিতা আক্তার (২৪), মেয়ে মীম আক্তার (২), মা মুরশিদা বেগম (৫০), নানী ফয়জুন নেছা (৭০), ভাতিজি রেশমা আক্তার (৯), লামিয়া আক্তার (৮) ও বড় ভাইয়ের স্ত্রী লাবনী আক্তার (২৫)।
নিহতরা সবাই লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার উত্তর জয়পুর ইউনিয়নের চৌপল্লী এলাকার কাশারি বাড়ির বাসিন্দা।
এ ঘটনার পর ওই এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। শোকে স্তব্দ হয়ে গেছেন প্রবাসী বাহার উদ্দিন।








