তিমির বনিক, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:
রাত পোহালেই বর সবাইকে নিয়ে কনেকে আনতে যাবেন। বরের হাতে মেহেদিও পরানো হয়ে গেছে। রাত তখন প্রায় ৩টা। হঠাৎ করেই আনন্দঘন পরিবেশ বদলে যায় শোকে। বরের ভাবি আয়েশা বেগম (৪০) হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান। নয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা আয়েশা বেগম পরদিন বুধবার (৬ আগস্ট) সিজারিয়ানের মাধ্যমে সন্তান জন্ম দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু মায়ের সঙ্গে গর্ভে থাকা সন্তানও মারা যায়। মুহূর্তেই বিয়েবাড়িতে আনন্দের রঙ মুছে গিয়ে নেমে আসে বিষাদের ছায়া; কান্নার রোল, আহাজারি ও বিলাপে পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে।
মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) গভীর রাতে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার পতনঊষার ইউনিয়নের ধোপাটিলা গ্রামে এ হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে।
মৃত আয়েশা বেগম উপজেলার পতনঊষার ইউনিয়নের ডুবাই প্রবাসী লাল মিয়ার স্ত্রী। তিন সন্তানের জননী আয়েশা বেগমের চতুর্থ সন্তান জন্মের অপেক্ষায় ছিল।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার পতনঊষার ইউনিয়নের ধোপাটিলা গ্রামের প্রবাসী যুবক আনসার মিয়ার বিয়ের অনুষ্ঠান ঘিরে মঙ্গলবার রাতে বাড়িতে সবাই আনন্দ-উল্লাসে মেতে ছিলেন। এ সময় অসাবধানতাবশত বড় ভাই লাল মিয়ার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী আয়েশা বেগমের শরীরে বৈদ্যুতিক শর্ট লাগে। কিছুক্ষণ পরই তিনি হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হন।
পরিবারের সদস্যরা দ্রুত মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক আয়েশা বেগম ও তাঁর গর্ভস্থ সন্তানকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনার পর বিয়ের কার্যক্রম আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে।
স্ত্রী ও গর্ভস্থ সন্তানের মৃত্যুর খবর পেয়ে প্রবাস থেকে স্বামী লাল মিয়া দেশে ফেরার পথে রয়েছেন। দেশে পৌঁছানোর পর জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে।
স্থানীয় বাসিন্দা ফটিকুল ইসলাম রাজু জানান, “ঘটনার পর বিয়ের সব কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। দাফনকাজ শেষে হয়তো বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে।”
আয়েশা বেগমের চাচা শ্বশুর ইসমাইল মিয়া বলেন, “আমরা কী বলব, কোনো ভাষা নেই। লাল মিয়া দেশে ফেরার পর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে।”








