রণধীর জয়সওয়াল, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র। (ফাইল ছবি)
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ভারত থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, ভারত সরাসরি বা পরোক্ষভাবে রাশিয়া থেকে তেল আমদানি করছে। আগেই ঘোষিত ২৫ শতাংশ শুল্কের পাশাপাশি এবার যুক্ত হলো এই অতিরিক্ত কর।
মার্কিন সরকারের এই সিদ্ধান্তকে ‘অন্যায়, অযৌক্তিক ও অগ্রহণযোগ্য’ বলে মন্তব্য করেছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
বুধবার (৬ আগস্ট) নয়াদিল্লি এক বিবৃতিতে জানায়, “ভারতের জ্বালানি আমদানি নীতিমালা বাজারের প্রেক্ষাপটে নির্ধারিত হয় এবং তা দেশের ১৪০ কোটির জনগণের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই নেওয়া হয়েছে। বিশ্বজুড়ে বেশ কিছু দেশ জাতীয় স্বার্থে একই ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করছে, অথচ কেবল ভারতকে লক্ষ্য করে এই শুল্ক আরোপ অত্যন্ত দুঃখজনক।”
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “আমরা আবারও জোর দিয়ে বলছি, এ ধরনের সিদ্ধান্ত অন্যায়, অযৌক্তিক এবং অগ্রহণযোগ্য। ভারত তার জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।”
রয়টার্সের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রশাসনের এই সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এলো, যখন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি চলতি মাসেই চীন সফর করতে যাচ্ছেন। সাত বছরের মধ্যে এটি হবে তার প্রথম বেইজিং সফর। এদিকে, ওয়াশিংটন ও নয়াদিল্লির মধ্যকার সম্পর্ক বর্তমানে বহু বছরের মধ্যে সবচেয়ে সংকটপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে। বিশেষ করে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা ব্যর্থ হওয়ায় উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সোমবার প্রথম এই শুল্ক আরোপের ইঙ্গিত দেন। পরে হোয়াইট হাউস থেকে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়। এর আগে ট্রাম্পের বিশেষ কূটনৈতিক দূত স্টিভ উইটকফ মস্কো সফরে যান এবং রাশিয়াকে ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে রাজি করানোর চেষ্টা করেন।
ট্রাম্প ইতোমধ্যে রাশিয়ার বিরুদ্ধে আরও কঠোর শুল্ক আরোপ এবং রাশিয়ার মিত্র দেশগুলোর ওপর গৌণ নিষেধাজ্ঞার হুমকি দিয়েছেন, যদি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে সম্মত না হন। এই ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এবার ভারতকেও শুল্কের আওতায় আনা হলো।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক এখন নতুন এক মোড়ে পৌঁছেছে। ভবিষ্যতে এই সম্পর্ক কোন দিকে মোড় নেয়, তা নির্ভর করছে পরবর্তী কূটনৈতিক অগ্রগতির ওপর।








