রবিবার, ৭ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

রাঙ্গামাটিতে ৩০ হাজার মানুষ এখনো পানিবন্দী

স্টাফ রিপোর্টার, পার্বত্যাঞ্চল:

টানা বৃষ্টিপাত কমে যাওয়া এবং কাপ্তাই বাঁধের স্পিলওয়ে দিয়ে পানি ছাড়ার ফলে রাঙ্গামাটির বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। শুক্রবার থেকে বিভিন্ন এলাকায় পানি নামতে শুরু করেছে।

জেলা প্রশাসক হাবিব উল্লাহর নির্দেশে রাঙ্গামাটি সদর, লংগদু, বাঘাইছড়িসহ বন্যাদুর্গত এলাকায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জরুরি খাদ্য সহায়তা বিতরণ করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ১ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার ও ২ হাজার কেজি চাল বিতরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি জেলায় ২৪৬টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত আছে।

প্রায় ৩০ হাজার মানুষ এ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, আর কয়েক হাজার একর ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। গত চার দিন ধরে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এবং কাপ্তাই হ্রদের পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় রাঙ্গামাটি শহরের শান্তিনগর, রসূলপুর, ব্রাহ্মণটিলা, পৌর কলোনি, আসামবস্তি, পুলিশ লাইন ও পাবলিক হেলথ এলাকা হ্রদের পানিতে তলিয়ে আছে।

বাঘাইছড়ি উপজেলার রূপকারী ইউনিয়ন, মাস্টারপাড়া, মধ্যম পাড়া, হাজী পাড়া, মাদ্রাসাপাড়া, এফ ব্লক, বটতলী, আমতলী ইউনিয়নসহ তৎসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলও প্লাবিত। সাজেকের বাঘাইহাট এলাকায় সেনাবাহিনী অর্ধশতাধিক পরিবারের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করেছে। উপজেলা প্রশাসনও ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে খাবার পৌঁছে দিচ্ছে।

লংগদু উপজেলার ঝরণা টিলা, ভাসাইন্যাদম, বগাচত্ত্বর ইউনিয়নের জালিয়াপাড়া, গুলশাখালী ইউনিয়নের সোনাগাঁও পাড়া, মাইনী ইউনিয়নের এফআইডিসি বড় কলোনি, বিলাইড়ি উপজেলা সদর, ধূপ্পারছড়, বহলতলী, বাঙ্গালকাটা, জুরাছড়ি, কাপ্তাই এবং নানিয়ারচর উপজেলার নিম্নাঞ্চল হ্রদের পানিতে তলিয়ে গেছে।

জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, রাঙ্গামাটি সদর, নানিয়ারচর, লংগদু ও বাঘাইছড়ি উপজেলার ২০টি ইউনিয়ন এবং রাঙ্গামাটি ও বাঘাইছড়ি পৌরসভাসহ মোট ৮১টি গ্রামের বাসিন্দারা পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। ক্ষয়ক্ষতির প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, বন্যায় হাজারো হেক্টর ফসলি জমি, ৪৩টি পুকুর, ৬১টি সড়ক এবং ৯টি হাটবাজার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে জুরাছড়ি, বিলাইছড়ি ও বরকল উপজেলার ক্ষয়ক্ষতির সঠিক তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি।

কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে কাপ্তাই হ্রদের পানি রয়েছে ১০৮ দশমিক ৭০ ফুট মিন সি লেভেলে। ১৬টি জলকপাট সাড়ে তিন ফুট খুলে সেকেন্ডে ৬৮ হাজার কিউসেক এবং ৫টি টারবাইনের মাধ্যমে আরও ৩২ হাজার কিউসেক পানি ছাড়া হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এই বিভাগের আরও সংবাদ >

সর্বশেষঃ