শনিবার, ৯ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

শেবাচিমের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়নে তিন মাস সময় চান পরিচালক

ব্যুরো চিফ, বরিশাল:

দক্ষিণাঞ্চলের কোটি মানুষের চিকিৎসা সেবা প্রদানকারী বরিশাল শের-ই বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় হাসপাতালের (শেবাচিম) স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়নে তিন মাস সময় চেয়েছেন হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. একেএম মশিউল মুনীর।

সোমবার (১১ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে হাসপাতালের মূল ভবনের তৃতীয় তলার সেমিনার হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি জানান। সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, শেবাচিমের দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধানে ইতোমধ্যে ২০টি কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে জনবল সংকটের কারণে তাৎক্ষণিকভাবে সব সমস্যা সমাধান সম্ভব নয়। আগামী তিন মাস সময় পেলে হাসপাতালের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

পরিচালক জানান, ছাত্র-জনতার চলমান আন্দোলন বিষয়ে স্বাস্থ্য উপদেষ্টা, সহকারী স্বাস্থ্য উপদেষ্টা, সচিব ও মহাপরিচালকের (ডিজি) সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। তারা বরিশালের স্বাস্থ্য খাত নিয়ে আন্তরিকভাবে কাজ করছেন এবং সময় দিলে পরিস্থিতি উন্নত হবে।

তবে সংবাদ সম্মেলনের কিছুক্ষণের মধ্যেই দুপুর ১২টার দিকে শেবাচিমসহ দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা সংস্কারের দাবিতে চলমান ১৫ দিনের আন্দোলনের অংশ হিসেবে বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়কের নথুল্লাবাদ বাসটার্মিনাল এলাকায় ফের অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন ছাত্র-জনতা। এতে সকল রুটের বাস ও যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। যাত্রীদের চরম ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়। ছোট যানবাহন বিকল্প সড়ক দিয়ে যাত্রী পরিবহন করলেও তাদের দ্বিগুণ ভাড়া গুনতে হচ্ছে।

আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, কোনো অতিরিক্ত সময় নয়—তাদের দাবিগুলো অবিলম্বে পূরণ করতে হবে। তারা স্বাস্থ্য উপদেষ্টার বরিশালে এসে সরাসরি ঘোষণা দেওয়ার দাবি জানান। অন্যথায় আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দেন।

স্বাস্থ্যখাত সংস্কার আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক মহিউদ্দিন রনি অভিযোগ করে বলেন, আন্দোলনের শুরু থেকেই একটি পক্ষ সরকারি হাসপাতালের দালাল সিন্ডিকেটের পক্ষ নিয়ে আন্দোলনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার ষড়যন্ত্র করছে। গত ১০ আগস্ট দুপুরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আন্দোলনে বাধা দেয় এবং পরে বিএম কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি করে। রাত সাড়ে ৯টার দিকে পরিকল্পিতভাবে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালানো হয়, এতে তিনি ও আরও সাতজন আহত হন। গুরুতর আহত ছয়জনকে শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আন্দোলনকারীদের তিন দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—
১. সারাদেশের সব সরকারি হাসপাতালে অবকাঠামোগত উন্নয়ন, আধুনিক যন্ত্রপাতি ও ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করা।
২. স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়সহ সব সরকারি হাসপাতালে দুর্নীতি প্রতিরোধে প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধি ও দলীয় রাজনীতি নিষিদ্ধকরণ।
৩. ডিজিটাল অটোমেশন ও স্বচ্ছ জবাবদিহিমূলক টাস্কফোর্স গঠন।

এছাড়া স্বাস্থ্যখাত সংস্কার কমিশনকে জনগণের ভোগান্তি শোনার ভিত্তিতে তদন্ত করে সুপারিশ, সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নের আহ্বান জানান তারা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এই বিভাগের আরও সংবাদ >

সর্বশেষঃ