পথে প্রান্তরে অনলাইন ডেস্ক:
দেশ যাতে গণতান্ত্রিক অবস্থায় ফিরে আসতে না পারে, সেজন্য বিভিন্ন স্থানে ষড়যন্ত্র চলছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
তিনি বলেন, “বিএনপি দেশকে এগিয়ে নিতে পরিকল্পনা করছে। কিন্তু সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন না হতে দেওয়ার জন্য নানা ষড়যন্ত্র চলছে। একইসঙ্গে দেশকে গণতান্ত্রিক পথে ফেরানো ঠেকাতেও নানামুখী চক্রান্ত চলছে। বিএনপির নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থেকে এসব ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করতে হবে।”
সোমবার (১১ আগস্ট) বিকেলে নওগাঁ জেলা বিএনপির দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
১৫ বছর পর নওগাঁ শহরের বালুডাঙ্গা এলাকার নওগাঁ কনভেনশন সেন্টারে এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
তারেক রহমান বলেন, “গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে স্বৈরাচারের পতনের পর প্রথম অধ্যায় শেষ হয়েছে। এখন শুরু হয়েছে দ্বিতীয় অধ্যায়—জনগণের রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম। এর প্রথম পদক্ষেপ হলো নির্বাচন। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ইতোমধ্যে নির্বাচনের সম্ভাব্য দিনক্ষণ ঘোষণা করেছে। আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে, রোজার আগে নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু এই নির্বাচন যাতে না হয়, সেজন্যও নানা ষড়যন্ত্র চলছে।”
ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় দলীয় নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “এখন বিএনপির সুসময় চলছে। এই সময়ে অনেক সুযোগসন্ধানী কাছে আসবে। তাদের বিষয়ে সজাগ থাকতে হবে এবং সর্বোপরি ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।”
ভবিষ্যতে সরকার গঠন করলেও বিএনপিকে বহু চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি। তারেক রহমান বলেন, “দেশে বিপুলসংখ্যক বেকার রয়েছে, যাদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ বহু খাত ভঙ্গুর অবস্থায় আছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য আমরা পরিকল্পনা করছি। কিন্তু সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন রুখতে ষড়যন্ত্র চলছে।”
দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, “দেশের মানুষ আজ বিএনপির দিকে তাকিয়ে আছে। তারা বিশ্বাস করে, একমাত্র বিএনপিই দেশকে পুনর্গঠনের সক্ষমতা রাখে। এজন্য নেতাকর্মীদের জনগণের আস্থা অর্জন করতে হবে, যাতে আগামী নির্বাচনে জয়ী হয়ে রাষ্ট্র পুনর্গঠনে এগিয়ে যাওয়া যায়।”
সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন নওগাঁ জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক এসএম রেজাউল ইসলাম। প্রধান বক্তা ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ।
এছাড়া বক্তব্য রাখেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও রাজশাহী বিভাগীয় সমন্বয়কারী বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সালাম, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা লে. কর্নেল (অব.) আব্দুল লতিফ খান, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (রাজশাহী বিভাগ) সৈয়দ শাহীন শওকত, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আমিনুর রহমান খান আলীম, ওবায়দুর রহমান চন্দন প্রমুখ।
দ্বিতীয় অধিবেশনে বিকেল সাড়ে ৫টা থেকে কাউন্সিলের মাধ্যমে জেলার শীর্ষ নেতৃত্ব নির্বাচিত করা হয়। জেলার ১১টি উপজেলা ও তিনটি পৌর কমিটির ১ হাজার ৪১৪ জন কাউন্সিলরের ভোটে নতুন নেতৃত্ব বেছে নেওয়া হয়। শীর্ষ তিনটি পদে মোট ২০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।








