শুক্রবার, ১লা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

সাদা পাথর উদ্ধারে রাতভর যৌথবাহিনীর অভিযান

পথে প্রান্তরে অনলাইন ডেস্ক:

সিলেটের ভোলাগঞ্জে দৃষ্টিনন্দন সাদা পাথর উদ্ধারে রাতভর অভিযান চালিয়েছে যৌথবাহিনী। বুধবার (১৩ আগস্ট) মধ্যরাতে ভোলাগঞ্জ সড়কের প্রবেশমুখে অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযান চলাকালে আমদানির প্রমাণপত্র যাচাই করে বৈধ পাথরবাহী ট্রাকগুলোকে যেতে দেওয়া হয়। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে ট্রাকে আনা পাথরের প্রমাণপত্র পরীক্ষা করেন যৌথবাহিনীর সদস্যরা। তবে চালকরা অভিযোগ করেন, বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও তাদের হয়রানি করা হচ্ছে। তাদের দাবি, ক্রাশার মিলে অভিযান চালানো উচিত।

পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ সিলেটের সাদা পাথর ও প্রকৃতিকন্যা জাফলংয়ের নৈসর্গিক সৌন্দর্যের মূল বৈশিষ্ট্যই ছিল এসব পাথর। কিন্তু গত এক বছরে বিপুল পরিমাণ পাথর লুট হয়ে গেছে, যা দেশে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রাকৃতিক সম্পদ সরিয়ে ফেলার বাজারমূল্য প্রায় ৬০০ কোটি টাকা হলেও ভূপ্রকৃতির ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা সম্ভব নয়। সরকারের নীতিনির্ধারক ও পরিবেশবিদদের মতে, রাজনৈতিক ঐকমত্যের কাছে প্রশাসনের অসহায় আত্মসমর্পণের কারণেই এ ধরনের কেলেঙ্কারি ঘটেছে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মধ্যেও সাদা পাথর চুরির ঘটনা আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। পর্যটকরা মনে করছেন, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি রাজনৈতিক নেতাদের লুটপাটের কারণে এখন মরুভূমিতে পরিণত হয়েছে।

সিলেটের সাধারণ নাগরিক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মতে, দেশের সমস্যার সমাধানে রাজনৈতিক নেতারা ঐকমত্যে পৌঁছাতে না পারলেও পাথর লুট, পাহাড় কাটা ও নদী দখলসহ পরিবেশ ধ্বংসের বিষয়ে তাদের মধ্যে ঐক্যমত বিদ্যমান।

পরিবেশ সুরক্ষায় কাজ করা স্থানীয়দের অভিযোগ, জাফলংসহ বিভিন্ন স্থানে হাজারো মানুষের জীবিকা নির্ভরশীল পাথর উত্তোলনের ব্যবসা আওয়ামী লীগ সরকারের সময় প্রভাবশালীদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। দলটির প্রভাবশালী নেতা, মন্ত্রী, এমপি এবং স্থানীয় নেতারা শতকোটি টাকার এই ব্যবসায় যুক্ত হন। গত বছরের ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার সিলেটে পাথর উত্তোলনে নিষেধাজ্ঞা দেয়।

খনিজসম্পদ বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, ভোলাগঞ্জের সাদা পাথর রক্ষায় মন্ত্রণালয় কার্যকর উদ্যোগ নিলেও রাজনৈতিক নেতারা ঐক্যবদ্ধ হয়ে এর বিরোধিতা করেন।

সূত্র মতে, গত ১৪ জুন সিলেটে সরকারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে পাথর উত্তোলনকারী, ব্যবসায়ী, মালিক ও শ্রমিক ঐক্য পরিষদের ব্যানারে বিক্ষোভ সমাবেশ হয়। এতে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা অংশ নেন। সমাবেশে নেতারা পাথর উত্তোলনের অনুমতি দেওয়ার দাবি জানান।

বিএনপি নেতা রেজাউল হাসান কয়েস লোদী সমাবেশে বলেন, “যে ব্যবসার ওপর দাঁড়িয়ে ১০ লাখ মানুষ জীবিকা নির্বাহ করত, সেই পাথর কোয়ারি বন্ধ করে তাদের পেটে লাথি মারা হয়েছে।” আর জামায়াত নেতা ফখরুল ইসলাম প্রশ্ন তোলেন, “যারা পরিবেশের দোহাই দিয়ে পাথর উত্তোলন বন্ধ রেখেছে, তাদের অন্য কোনো উদ্দেশ্য আছে কি না, তা খতিয়ে দেখার সময় এসেছে।”

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এই বিভাগের আরও সংবাদ >

সর্বশেষঃ