ব্যুরো চীফ, বরিশাল:
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে বুধবার (১৩ আগস্ট) দিবাগত রাতে বরিশাল নগরীতে মশাল মিছিল করেছে আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতা।
স্বাস্থ্যখাত সংস্কার আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকা সংগঠক মহিউদ্দিন রনি বলেন, বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজসহ দেশের সকল সরকারি হাসপাতালের অব্যবস্থাপনা, চিকিৎসা সেবায় অবহেলা এবং স্বাস্থ্যখাত সংস্কারের দাবিতে বরিশালে চলমান আন্দোলনের ১৭ তম দিনের কর্মসূচি হিসেবে ১৩ আগস্ট বরিশালের সদর রোড, সাগরদী, নথুল্লাবাদ ও রহমতপুরে নির্দিষ্ট সময় ব্লকেড অনুষ্ঠিত হয়েছে।
একইসাথে পটুয়াখালীতে তিন দফা দাবির সমর্থনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। ওইদিন বিকেলে কর্মসূচির সমাপ্তি ঘোষণা করে নথুল্লাবাদ থেকে অনশনস্থানে প্রেস কনফারেন্সে যোগ দিতে রওনা হয় আন্দোলনকারীরা। এসময় একদল সন্ত্রাসী সংগঠিতভাবে তাদের ওপর হামলা চালায়। এতে আন্দোলনকারী ১৪ জন আহতাবস্থায় শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
মহিউদ্দিন রনি আরও বলেন, ১৩ আগস্ট দুপুরে শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ মিলনায়তনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, চিকিৎসক, সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের ব্যক্তিবর্গ নিয়ে মত বিনিময় করেছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. মো. আবু জাফর। তবে ওই সভায় স্বাস্থ্যসেবা সংস্কার আন্দোলনের কেউ যোগদান করেননি।
সভায় স্বাস্থ্য খাত সংস্কারের তিন দফা দাবির বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, অযৌক্তিক আন্দোলন বন্ধ না হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী হস্তক্ষেপ করবে। আন্দোলনকারীরা তার এই বক্তব্যের প্রতিবাদ ও ধিক্কার জানানোর অংশহিসেবে রাতে মশাল মিছিল বের করা হয়।
মহিউদ্দিন রনি বলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের সাথে আমাদের কোন ধরনের সমঝোতা হয়নি। আমাদের শেষ দাবি স্বাস্থ্য উপদেষ্টাকে বরিশালে এসে আন্দোলনকারীদের সাথে কথা বলতে হবে। স্বাস্থ্য উপদেষ্টা বরিশালে না আসা পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। তারই অংশহিসেবে চলমান বরিশাল ব্লকেডের পাশাপাশি নতুন করে গণঅনশন কর্মসূচির পালন করা হবে।

আন্দোলন থেকে সরে দাঁড়িয়েছে বিএম কলেজ :
বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালসহ স্বাস্থ্যখাত সংস্কার আন্দোলন থেকে শহরে দাঁড়িয়েছে বিএম কলেজের শিক্ষার্থীরা। পাশাপাশি স্বাস্থ্যখাত সংস্কার আন্দোলনে জনভোগান্তি হলে প্রতিরোধের ঘোষণা দিয়েছে শিক্ষার্থীদের বড় একটা অংশ। ১৩ আগস্ট দিবাগত রাত ১০টার দিকে ঘোষণা দিয়ে এ সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
বিএম কলেজের শিক্ষার্থী শাহাবুদ্দিন মিয়া বলেন, বর্তমানে আন্দোলন পরিচালনার ধরণ এবং দীর্ঘ আন্দোলনে মানুষের জনজীবনে ভোগান্তি সৃষ্টি হচ্ছে। কর্তৃপক্ষের আশ্বাসের প্রতি আস্থা রেখে আমরা শিক্ষার্থীরা যৌথভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছি আগামী ৩০ কার্যদিবসের জন্য আন্দোলন স্থগিত করা হবে। এটি ছাত্র-জনতার সম্মিলিত সিদ্ধান্ত। তবে মহিউদ্দিন রনি যদি ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তে গণঅনশন চালিয়ে যান সেটি তাঁর সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত বিষয়।
অপর শিক্ষার্থী সাব্বির হোসেন সোহাগ বলেন, স্বাস্থ্য উপদেষ্টার পাঠানো প্রতিনিধি দলের এবং মেডিক্যালের পরিচালকের আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে আমরা আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা এই মুহুর্তে ৩০ কার্য দিবস সময় বেঁধে দিয়ে আন্দোলন স্থগিত করেছি। আমরা আশা করি আগামী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে আমাদের দাবিগুলো পূরণ করবেন এবং মেডিক্যালের সকল সিন্ডিকেট ও দালালদের নির্মূল করতে সক্ষম হবেন। যদি এর ব্যত্যয় ঘটে তাহলে আমরা কঠোর আন্দোলন গড়ে তুলবো।
যান চলাচল বন্ধ :
বরিশাল নগরীর নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল সংলগ্ন মহাসড়ক আটকে আন্দোলন চলাকালে ছাত্র-জনতার সঙ্গে ১৩ আগস্ট বিকেলে বাস শ্রমিকদের সংঘর্ষের ঘটনার পর যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, হঠাৎ আন্দোলনকারীদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। এরপর শুরু হয় শ্রমিকদের সঙ্গে পাল্টাপাল্টা ধাওয়া ও হামলার ঘটনা। কিছুক্ষণের মধ্যে গোটা বাস টার্মিনাল দখলে নেন শ্রমিকরা। অবস্থা বেগতিক দেখে সরে যায় স্বাস্থ্যখাত সংস্কারের দাবিতে মহাসড়ক ব্লকেড করতে আসা ছাত্র-জনতা।
নথুল্লাবাদ বাসশ্রমিক আব্দুস সালাম খান বলেন, নথুল্লাবাদে আর আন্দোলন হবে না। আন্দোলন যারা করে, তারা যেন শেবাচিমে গিয়ে করে। শ্রমিকের পেটে ভাত নেই, এই আন্দোলন আমরা মানি না।
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের বিমানবন্দর থানার ওসি মো. জাকির সিকদার বলেন, আন্দোলনকারীদের সঙ্গে শ্রমিকদের মারামারি হয়। পরে ছাত্ররা বাসস্টান্ড ছেড়ে চলে যান। শ্রমিকরা সড়কে অবস্থান নিয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।








