রবিবার, ১৯শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

পাবনায় অভিযানের পরও বন্ধ হয়নি আ.লীগ নেতার বালুর ব্যবসা

এস এম আদনান উদ্দিন, পাবনা জেলা প্রতিনিধি:

প্রশাসনের একাধিক অভিযানের পরও থামছে না পাবনার ফরিদপুরে আওয়ামী লীগ নেতাদের অবৈধ বালুর ব্যবসা। নদী ও বিল থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে চলছে কোটি টাকার লেনদেন। এ নিয়ে কেউ প্রতিবাদ করলেই করা হচ্ছে মারধর ও ভয়ভীতি প্রদর্শন। ভারী বালুবাহী ট্রাকের চাপে ভেঙে পড়েছে কালভার্ট, ফলে শত শত বিঘা জমিতে জলাবদ্ধতার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ অনুযায়ী, ক্ষমতায় থাকার সময়ই ফরিদপুর উপজেলার ডেমড়া এলাকার আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল বাতেন প্রামাণিক ও আনোয়ার হোসেন গড়ে তোলেন অবৈধ বালুর ব্যবসা। ক্ষমতাচ্যুত হলেও তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। সম্প্রতি উপজেলা প্রশাসন বালু মহলে অভিযান চালিয়ে পাইপ ও যন্ত্রপাতি ভেঙে দেয়।

এই অভিযানের পেছনে তথ্য সরবরাহের সন্দেহে স্থানীয় সাবেক সেনা সদস্য ইমরান হোসেনের ওপর হামলা চালানো হয় এবং তার গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। এ ঘটনায় মামলা হলেও হুমকির মুখে এলাকা ছেড়ে থাকতে হচ্ছে তাকে ও তার পরিবারকে।

স্থানীয়রা জানান, বংশগত প্রভাবের কারণে অভিযুক্তরা এলাকায় অত্যন্ত ক্ষমতাশালী। তাদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কেউ কথা বলতে সাহস পায় না। বালু ব্যবসার পাশাপাশি বিভিন্ন অবৈধ কর্মকাণ্ডও চালিয়ে যাচ্ছেন তারা।

ভুক্তভোগী ইমরান হোসেন বলেন, “উপজেলা প্রশাসনের অভিযানের পর আমাকে সন্দেহ করে রাস্তায় প্রকাশ্যে হত্যাচেষ্টা চালানো হয়। আমি দৌড়ে প্রাণ রক্ষা করি, কিন্তু আমার গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। থানায় অভিযোগ করার পর আরও ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে হত্যার হুমকি দিচ্ছে।”

অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল বাতেন প্রামাণিক ও আনোয়ার হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে আনোয়ারের ছেলে মো. পাপেল এবং বাতেনের ভাতিজা নুর নবী ও মাহফুজুর রহমান দাবি করেন, “অনেক আগে থেকেই আমরা বালুর ব্যবসা করছি। এখন কিছু মানুষ ষড়যন্ত্র করছে। আমাদের এলাকার কেউ অভিযোগ করছে না, বাইরের কয়েকজন এসব করছে।”

ফরিদপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সানাউল মোর্শেদ বলেন, “আমরা গতকালও অভিযান চালিয়েছি। তাদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত আছে এবং তারা পলাতক। ভাঙা রাস্তা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে মেরামত করা হয়েছে।”

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এই বিভাগের আরও সংবাদ >

সর্বশেষঃ