ব্যুরো চীফ, বরিশাল:
বরিশালের উজিরপুরে পুলিশের সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় উদ্যোগে একটি ‘মব অ্যাটাক’ থেকে রক্ষা পেয়েছেন এক স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা। বিষয়টি নিয়ে সহকারী পুলিশ সুপার (উজিরপুর সার্কেল) মো. ইকরামুল আহাদ ও উজিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস সালামের প্রশংসা করছেন স্থানীয়রা।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উজিরপুর উপজেলার ধামুড়া এলাকার বাসিন্দা ভাষাই সরদারের ছেলে শহিদুল ইসলামের সঙ্গে একই এলাকার যুবদল কর্মী মাছুম হাওলাদারের দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলছে।
গত ১৩ আগস্ট সন্ধ্যায় ওই বিরোধের জেরে উজিরপুর মডেল থানার সামনে এক শালিস বৈঠকে উপস্থিত হন শহিদুল ইসলাম। এসময় প্রতিপক্ষ মাছুম হাওলাদার ও তার সহযোগীরা জোরপূর্বক তাকে টানাহেঁচড়া করে থানায় নিয়ে গিয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। পরবর্তীতে তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করে—‘ছাত্র-জনতা আওয়ামী লীগ নেতাকে পুলিশে সোপর্দ করেছে’।
তবে তদন্তে পুলিশ দেখতে পায়, শহিদুল ইসলাম নিরপরাধ এবং ঘটনাটি মূলত ব্যক্তিগত বিরোধের অংশ। পরে উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা করে তাকে মব সন্ত্রাস ও হয়রানি থেকে রক্ষার লক্ষ্যে লিখিত মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।
এদিকে যুবদল কর্মী মাছুম হাওলাদার দাবি করেন, চলতি বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারি উজিরপুরের সোনার বাংলা এলাকায় কথিত বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার ৫৩ নম্বর আসামি শহিদুল ইসলাম। তাই তাকে আটক করা হয়েছিল।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই মামলাটি নিয়ে শুরু থেকেই প্রশ্ন উঠেছে। ঘটনার চারদিন পর বিএনপি নেতা সবুজ হাওলাদারের দায়ের করা মামলায় প্রতিপক্ষ বিএনপি নেতা, সাংবাদিকসহ ৭৫ জনকে আসামি করা হয়। পরে মামলার বাদী ও এক আসামি সাংবাদিকের কলরেকর্ড ফাঁস হলে রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় শুরু হয়। সাংবাদিককে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর প্রতিবাদে বরিশালের বিভিন্ন উপজেলায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল হয়।
বোমা নিস্ক্রিয়করণে আসা সেনাবাহিনীর ২২ ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়নের বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জানায়, ‘ককলেট সদৃশ বস্তুতে কোনো বিস্ফোরক উপাদান নেই।’ ফলে মামলাটিকে ‘সাজানো নাটক’ বলে মনে করছেন অনেকে।
সহকারী পুলিশ সুপার (উজিরপুর সার্কেল) মো. ইকরামুল আহাদ বলেন, “কোনো নিরপরাধ মানুষকে হয়রানি করার পক্ষে পুলিশ নয়। জমিজমা বিরোধের জেরে থানায় আনা ব্যক্তিকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।” কথিত মামলার বিষয়ে তিনি জানান, বোমা নিস্ক্রিয় দলের প্রতিবেদনে স্পষ্ট হয়েছে যে ঘটনাটি সাজানো। দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে পেশ করা হবে।








