শনিবার, ৯ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

অধরাই রইলো স্বপ্ন, বিপিএলে ভেন্যু হলো না বরিশাল

ব্যুরো চীফ, বরিশাল:

ধীরগতির এলোমেলো সংস্কার কাজের কারণে এবারও বরিশাল স্টেডিয়ামে বসছে না বিপিএলের আসর। বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের আশ্বাসে বরিশালবাসীর মনে আশা জাগলেও শেষ পর্যন্ত তা ভেস্তে গেছে। ইতোমধ্যে বিপিএল ২০২৫–২৬ মৌসুমের দিনক্ষণ, ম্যাচসূচি এবং ভেন্যু নির্ধারণ করা হয়েছে। ঘোষিত তালিকায় নেই বরিশালের কবি জীবনানন্দ দাশ ক্রিকেট স্টেডিয়ামের নাম।

আসন্ন বিপিএলের ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে ঢাকার শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম, সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম এবং চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে। প্রাথমিকভাবে রাজশাহী, বরিশাল ও খুলনাকেও সম্ভাব্য ভেন্যুর তালিকায় রাখা হলেও শেষ পর্যন্ত বরিশাল বাদ পড়ে যায়।

বিপিএল চেয়ারম্যান মাহবুব আনাম অতিরিক্ত অন্তত একটি ভেন্যু যুক্ত করার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। তার পরিপ্রেক্ষিতে গত ৩০ জুলাই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের টেকনিক্যাল টিম বরিশাল স্টেডিয়ামের সংস্কার কাজ পরিদর্শনে আসে। কিন্তু কাজের অগ্রগতি দেখে তারা অসন্তোষ প্রকাশ করে ফিরে যান। পরে ভেন্যুর তালিকা থেকে বরিশাল বাদ পড়ে এবং নিশ্চিত হয় রাজশাহী ও খুলনার দুটি স্টেডিয়াম। এতে হতাশায় ভুগছেন বরিশালের ক্রিকেটপ্রেমীরা।

তাদের মতে, আন্তর্জাতিক মানের অবকাঠামো থাকা সত্ত্বেও কেবল অব্যবস্থাপনার কারণে স্টেডিয়ামটি মূল্যহীন হয়ে আছে। প্রায় পাঁচ বছর ধরে সংস্কার কাজ চললেও এখনো শেষ হয়নি।

সরেজমিনে কবি জীবনানন্দ দাশ স্টেডিয়ামে গিয়ে দেখা গেছে, সংস্কার কাজের চরম এলোমেলো অবস্থা। প্রতিটি পর্যায়ের কাজ শুরু হলেও তা অসম্পূর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। মাঠ প্রস্তুতের কাজের চেয়ে গ্যালারির চেয়ার বসানোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। আবার কয়েক দফায় মাঠের মাটি খুঁড়ে স্তুপ করে রাখা হয়েছে।

প্যাভিলিয়ন ভবন ও মিডিয়া ব্লকের প্রায় ৫০ শতাংশ কাজ শেষের দাবি করা হলেও তা সম্পূর্ণ হতে আরও সময় লাগবে। ফ্লাডলাইট বসানো হয়েছিল আগে, কিন্তু দীর্ঘদিন ব্যবহার না হওয়ায় সেগুলো অকেজো হয়ে পড়েছে। সেগুলো সচল করতে আরও পাঁচ-ছয় মাস সময় লাগবে। সাবস্টেশন, ট্রান্সফরমার বসানো ও বৈদ্যুতিক সংযোগের কিছু কাজ সম্পন্ন হলেও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মাঠের কাজ এখনো শোচনীয় অবস্থায় রয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী সিলেটের মতো আধুনিক ঘাস এবং উন্নতমানের ড্রেনেজ ব্যবস্থা বসানোর কথা থাকলেও কবে হবে তার কোনো নিশ্চয়তা নেই।

স্টেডিয়ামে অনুশীলন করতে আসা খেলোয়াড়রা বলেন, কাজের বর্তমান গতিতে আগামী ছয় মাস তো দূরের কথা, এক বছরেও সংস্কার শেষ হওয়ার সম্ভাবনা নেই। তাই বিপিএল তো নয়ই, আগামী কয়েক বছর স্থানীয় খেলাও এই স্টেডিয়ামে আয়োজন করা কঠিন হবে।

বরিশাল বিভাগীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আসাদুজ্জামান খসরু বলেন, “বিপিএল কিংবা আন্তর্জাতিক মানের আসর আয়োজনের স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ার মূল কারণ হলো অনির্বাচিত ও অভিভাবকহীন জেলা ক্রীড়া সংস্থা। নির্বাচিত কমিটি থাকলে এ পরিস্থিতি হতো না। দীর্ঘদিন ধরে নিম্নমানের কাজ চলছে। কাজের মান নিয়ে অভিযোগ করেও কোনো সুফল পাওয়া যায়নি।”

বর্তমানে তিন সদস্যের এডহক কমিটি দিয়ে চলছে জেলা ক্রীড়া সংস্থা। কার্যকর তদারকি নেই বললেই চলে। ১৯৯৫ সালের পর আর কোনো নির্বাচন হয়নি সংস্থাটির।

উল্লেখ্য, ১৯৬৬ সালে বরিশাল নগরীর বান্দ রোড সংলগ্ন কীর্তনখোলা নদীর তীরে ২৯ একর ১৫ শতক জমির ওপর স্টেডিয়ামটি নির্মিত হয়। পরবর্তীতে প্রায় ২৩ কোটি টাকা ব্যয়ে এটি আধুনিকায়ন করা হয়। তবে এখন পর্যন্ত এই স্টেডিয়ামে কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়নি।

২০১৯ সালে প্রথম আন্তর্জাতিক আসর হিসেবে বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কা অনূর্ধ্ব-১৯ দলের চার দিনের ম্যাচ আয়োজনের কথা থাকলেও বৃষ্টির কারণে তা পরিত্যক্ত হয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এই বিভাগের আরও সংবাদ >

সর্বশেষঃ