সোমবার, ২০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

শেবামেকে চার দিনে ৯৫টি অচল মেশিন সচল

ব্যুরো চীফ, বরিশাল:

মাত্র চার দিনে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের (শেবামেক) ৯৫টি অচল মেশিন সচল করেছেন হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল একেএম মশিউল মুনীর।

গত চারদিন ধরে ন্যাশনাল ইলেকট্রো ইকুইপমেন্ট মেইনটেন্যান্স ওয়ার্কশপ অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টার (নিমিউ অ্যান্ড টিসি) থেকে আসা সাত সদস্যের কারিগরি টিম হাসপাতালের রেডিওলজি ও ইমেজিং, প্যাথলজি, সিসিইউ, আইসিইউ, অপারেশন থিয়েটার, চক্ষু বিভাগ, সার্জারি এবং নাক-কান-গলা বিভাগের বিভিন্ন অকেজো মেশিন মেরামতের কাজ করেছে।

শুক্রবার ও শনিবার কারিগরি টিমের সদস্যরা হাসপাতালে অতি প্রয়োজনীয় ৯৫টি মেশিন সচল করার কাজ সম্পন্ন করেছেন। পর্যায়ক্রমে আরো একটি এনজিওগ্রাম, সিটি স্ক্যান, এক্সরে, লেসিক, ওসিটি, লিথোরিপটর ও এন্ডোসকপি মেশিনসহ ২০টি মেশিন সচল করার কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে।

শেবামেকের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল একেএম মশিউল মুনীরের বিশেষ অনুরোধে নিমিউ অ্যান্ড টিসি থেকে প্রথমে পাঁচ সদস্যের কারিগরি টিম হাসপাতালে আসে। তারা সকল মেশিন সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষানিরীক্ষা করেন। পরবর্তীতে হাসপাতালের নিজস্ব টেকনিশিয়ানের সঙ্গে আরও দুইজন টেকনিশিয়ানকে সংযুক্ত করা হয়।

কারিগরি টিমের সদস্য উপ-সহকারী প্রকৌশলী (অপটিক্যাল) হাফিজুর রহমান জানান, গত চারদিনে টিম ছয়টি অ্যানেস্থেসিয়া মেশিন, ২৫টি সাকশন মেশিন, ১০টি আইসিইউ ভেন্টিলেটর, পাঁচটি অটোক্লেভ, একটি সি-আর্ম মেশিন, দুইটি মনিটর, আটটি ওটি টেবিল, পাঁচটি ব্লাড ব্যাংক রেফ্রিজারেটর, ১০টি হাই ফ্লো নাসাল ক্যানুলা, পাঁচটি আইসিইউ বেড, ছয়টি ওটি লাইট, পাঁচটি ডেন্টাল ইউনিট, দুইটি ডায়াথার্মি মেশিন, চারটি ইসিজি মেশিন ও একটি এক্সরে মেশিনসহ ৯৫টি মেশিন সচল করতে সক্ষম হয়েছেন।

তিনি আরও জানান, হাসপাতালের একটি করে ইকো, কার্ডিয়াক ডিফাইব্রিলেটর, কার্ডিয়াক মনিটার, ইসিজি ক্যাথল্যাব (এনজিওগ্রাম), সিটি স্ক্যান, চোখের লেসিক ও ফ্যাকো, অপটিক্যাল কোহেরেন্স টমোগ্রাফি (ওসিটি), ইউরোলজি লিথোরিপটর, একটি সি-আর্ম, দুইটি এক্সরে ও এন্ডোসকপি মেশিন মেরামত করে চালু করা হবে। যন্ত্রাংশ দেশের বাইরে থেকে আনা হচ্ছে, তাই কিছুটা সময় লাগবে।

ন্যাশনাল ইলেকট্রো ইকুইপমেন্ট মেইনটেন্যান্স ওয়ার্কশপ অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টার থেকে আসা কারিগরি টিমের অন্যান্য সদস্য হলেন উপ-সহকারী প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) শুভদেব সরকার, উপ-সহকারী প্রকৌশলী (ইলেকট্রনিক্স) অপু সরকার, উপ-সহকারী প্রকৌশলী (আরএসি) মো. মাহাবুব হোসেন, টেকনিশিয়ান (ইলেকট্রনিক্স) মো. তৌহিদুর জামান, টেকনিশিয়ান আওলাদ হাসান ও টেকনিশিয়ান কাউছার হোসেন।

হাসপাতালের টেকনোলজিস্ট মিথুন রায় জানান, হাসপাতালের রক্ত পরিসঞ্চালন কেন্দ্রসহ বিভিন্ন বিভাগের প্রায় শতাধিক মেশিন সচল করা হয়েছে। এতে রোগীরা সেবা পাচ্ছেন এবং হাসপাতালও কার্যক্রম চালাতে পারছে।

পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল একেএম মশিউল মুনীর বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালের অনেক মেশিন অকেজো অবস্থায় ছিল। সেগুলো মেরামত করে সচল করা হয়েছে। বাকী মেশিন সচল করতে যন্ত্রাংশ আমদানি করা হচ্ছে। এছাড়া সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে একটি এমআরআই মেশিন, ক্যাথল্যাব ও সি-আর্ম মেশিন পেতে যাচ্ছি। সফলতা জোর করে আসে না, ভালোবাসা দিয়ে নিতে হয়। জনগণকে সচেতন ও সহযোগী হতে হবে।”

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এই বিভাগের আরও সংবাদ >

সর্বশেষঃ