শনিবার, ২রা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

তিস্তা প্রকল্পের কাজ শুরু হচ্ছে জানুয়ারিতে

পথে প্রান্তরে অনলাইন ডেস্ক:

আগামী জানুয়ারিতে শুরু হচ্ছে তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ। বাংলাদেশ ও চীনের যৌথ উদ্যোগে বাস্তবায়ন হবে এই প্রকল্প। ইতিমধ্যেই চীনের দূতাবাসের একটি প্রতিনিধি দল তিস্তার মাঠ পর্যায়ের জরিপ সম্পন্ন করেছে। ১০ বছরের মেয়াদে এ প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ১২ হাজার কোটি টাকা। প্রথম পাঁচ বছরে সেচ, ভাঙন রোধ এবং স্থায়ী বাঁধ নির্মাণকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। ইআরডি থেকে তিস্তা মহাপরিকল্পনার খসড়া চীনের সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহেই কাজ শুরু হবে।

উত্তরের দুই কোটি মানুষের জন্য দুঃখের কারণ হলো তিস্তা নদী। এই নদীর ওপর নির্ভর করে এই অঞ্চলের লাখো মানুষের জীবন ও জীবিকা। কৃষি থেকে শুরু করে জেলেরা সবাই এই নদীর ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু বছরের পর বছর নদীর ভাঙনে হাজারো মানুষ সর্বশান্ত হচ্ছে। তারা বাস্তুহারা হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

রিভারাইন পিপলের এক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিবছর তিস্তার ভাঙন ও প্লাবনে উত্তরের পাঁচ জেলার বাসিন্দারা ১ লাখ কোটি টাকার বেশি ক্ষতির মুখে পড়েন। এছাড়াও বাস্তুভিটা ও ফসলি জমি হারিয়ে বাস্তুহারা মানুষের সংখ্যা বাড়ছে।

চীনের রাজনৈতিক বিভাগীয় পরিচালক জং জিং জানিয়েছেন, সবকিছু ঠিক থাকলে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতেই তিস্তা মহাপরিকল্পনার বাস্তবায়ন কাজ শুরু হবে। সম্প্রতি তার নেতৃত্বে চীনা প্রতিনিধি দল বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি, তিস্তা বাঁচাও নদী বাঁচাও সংগ্রাম পরিষদ ও তিস্তা নদী রক্ষা আন্দোলনসহ নদীপারের মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করেছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, ২০১৪ সাল থেকে শুষ্ক মৌসুমে প্রতিবেশী দেশ ভারত তিস্তার পানি পুরোপুরি প্রত্যাহার করে নিচ্ছে। বর্ষাকালে তিস্তায় প্রবাহিত হয় তিন থেকে চার লাখ ঘনফুট পানি, যা দ্রুত নেমে এসে উত্তরের পাঁচ জেলা—নীলফামারী, রংপুর, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধা—তলিয়ে যায়। ভাঙনের পাশাপাশি ব্যাপক ফসলি জমি ক্ষতির মুখে পড়ে।

তিস্তা বাঁচাও নদী বাঁচাও সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি নজরুল ইসলাম হক্কানি বলেন, “দশ বছরের বেশি সময় ধরে আমরা তিস্তা মহাপরিকল্পনার বাস্তবায়নের দাবিতে অববাহিকার মানুষদের সঙ্গে আন্দোলন চালিয়ে আসছি। বিগত আওয়ামী সরকার তিস্তাকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছিল। তারা প্রতিশ্রুতি দিলেও প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার যে উদ্যোগ নিয়েছে, তাতে তিস্তাপারের মানুষের আশা ও চাওয়া পূরণের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।”

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এই বিভাগের আরও সংবাদ >

সর্বশেষঃ