,

বিসিসির গড়িমসিতে প্লট কিনেও বিপাকে ২৪০ পরিবার

ব্যুরো চীফ, বরিশাল:

চলাচলের রাস্তা ও মাস্টার প্ল্যান থাকা সত্ত্বেও উচ্চ আদালতে দায়ের করা রিট পিটিশনের জবাব না দেওয়ায় তিন বছর ধরে স্থবির হয়ে আছে বরিশাল সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) কাউনিয়া হাউজিং-২ প্রকল্প।

অভিযোগ রয়েছে, বিসিসির গাফিলতির কারণে সাংবাদিক, আইনজীবী, মুক্তিযোদ্ধাসহ নানা পেশার ভূমিহীনরা প্লটের টাকা জমা দিয়েও তা বুঝে পাননি।

ক্ষতিগ্রস্তরা জানান, তিন বছর পার হলেও প্লট না পেয়ে ছয় ব্যক্তির দায়ের করা একটি মামলার মোকাবেলায় উদ্যোগ নেয়নি বিসিসি কর্তৃপক্ষ। ফলে টাকা দেওয়ার পরও প্রতিকার পাচ্ছেন না তারা।

ভুক্তভোগীদের দাবি, প্রকল্পের চার ভাগের তিন ভাগ প্লট ইতোমধ্যেই চিহ্নিত করা হয়েছে। কিন্তু চলাচলের রাস্তা নেই দাবি করে মামলাটি করা অযৌক্তিক।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক সাংবাদিক বলেন, পরিবার নিয়ে ভাড়া বাসায় বসবাস করছেন তিনি। লটারির মাধ্যমে একটি প্লট পেলেও কাউনিয়া এলাকার এক ভূমিদস্যু ভুয়া তথ্য দিয়ে হাইকোর্টে রিট করে নানা অপপ্রচার চালাচ্ছেন। এমনকি সাবেক মেয়র ও শেখ মুজিবুর রহমানের ভাগ্নে আবুল খায়ের আব্দুল্লাহ খোকন সেরনিয়াবাতের প্রভাব খাটিয়ে মামলার বাদীরা সিটি করপোরেশনকে রিটের জবাব দিতে বাধা দিয়েছেন।

তিনি আরও জানান, অনেকেই ঋণ নিয়ে প্লটের প্রথম কিস্তির তিন লাখ টাকা জমা দিয়েছেন। বাদী মকবুল গাজী ওই এলাকার কমিশনার রফিকুল ইসলাম খোকন ওরফে মামা খোকনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী।

সাবেক মেয়র আহসান হাবিব কামালের সময়ে এই প্রকল্প অনুমোদন পায়। তৎকালীন মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ এবং খোকন আব্দুল্লাহর দ্বন্দ্বের কারণে প্রকল্পটি জটিলতায় পড়ে বলে অভিযোগ উঠেছে।

বরিশাল বেতারের শিল্পী মুজিব মেহেদী জানান, ৪–৫ বছর আগে বিজ্ঞপ্তি দেখে তিনি একটি প্লটের জন্য আবেদন করেন এবং লটারিতে প্লট পান। তার মতো আরও ২৪০ জন আবেদনকারী প্লট পান এবং প্রথম কিস্তি বাবদ আড়াই থেকে তিন লাখ টাকা বিসিসির কোষাগারে জমা দেন।

প্লটগুলো এ, বি, সি ও ডি—এই চার ক্যাটাগরিতে ভাগ করে মূল্য নির্ধারণ করা হয়। পরে এগুলোর দাম দাঁড়ায় ১০ থেকে সাড়ে ১২ লাখ টাকা পর্যন্ত। গ্রাহকদের টাকা নেওয়ার পর বালু ভরাট ও উন্নয়ন কাজ করার কথা থাকলেও তা সম্পন্ন করেনি বিসিসি।

এরই মধ্যে ২০২২ সালে মকবুল গাজীসহ ছয় ব্যক্তি ‘মাস্টার প্ল্যান ও চলাচলের রাস্তা নেই’ দাবিতে হাইকোর্টে রিট পিটিশন (নং ১৮৯০/২০২২) দায়ের করেন। আদালত প্রথমে তিন মাস, পরে ছয় মাস এবং সর্বশেষ ১২ মাসের জন্য স্থিতাবস্থা (স্ট্যাটাসকো) জারি করে।

ফলে প্লট মালিকদের সব ধরনের নির্মাণকাজ স্থগিত হয়ে যায়। রাস্তা, ড্রেন, কালভার্ট ও খেলার মাঠ নির্মাণ কাজও বন্ধ হয়ে পড়ে। এতে চরম বিপাকে পড়েন ২৪০ প্লট মালিক।

এক প্লট মালিক জানান, ভুল করলে করেছে বিসিসি—ভুক্তভোগীদের কেন খেসারত দিতে হবে? মকবুল গাজী ওই এলাকায় বহু জমির মালিক। তিনি একাধিক ভবনের মালিক এবং নিজ প্রতিবন্ধী ভাই ও মৃত ভাইয়ের সম্পত্তি দখলে রেখেছেন। অথচ কয়েকজনের জন্য আড়াইশো পরিবার বিপর্যস্ত।

তানভীর নামের আরেক ভুক্তভোগী বলেন, সি ক্যাটাগরির ২.৫০ শতকের প্লট কিনতে তিনি ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা পরিশোধ করেছেন। পরে সিটি করপোরেশনের নির্দেশে বালুও ফেলেছেন। তবে মামলার অজুহাতে কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তিনি ইতোমধ্যে বাউন্ডারি দেয়ালসহ প্রায় আট লাখ টাকা খরচ করেছেন। তিন বছর পার হলেও সমস্যার সমাধান হয়নি।

মামলার বাদী মকবুল গাজীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল বারি জানান, বাদীপক্ষ সড়ক ও ড্রেন নির্মাণের দাবি করেছেন। তবে একটি হাউজিং প্রকল্প কখনোই চলাচলের রাস্তা ও ড্রেন বাদ দিয়ে করা যায় না। বরং বাস্তবে নকশার চেয়ে বেশি রাস্তা রাখা হয়েছে। হয়তো প্লট না পেয়ে একটি পক্ষ আদালতে গিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বিসিসি ইতোমধ্যে আইনজীবী নিয়োগ করেছে এবং মামলার জবাব দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।

বিসিসির আইনজীবী এনায়েত হোসেন বাচ্চু বলেন, মামলার জবাব দেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তবে মামলার স্বার্থে এই মুহূর্তে বিস্তারিত কিছু বলা যাচ্ছে না।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এই বিভাগের আরও সংবাদ >

সর্বশেষঃ