সোমবার, ২০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

বিদেশে পাচারকৃত ৪০ হাজার কোটি টাকার সম্পত্তি, ৩৫২ বিদেশি পাসপোর্টের সন্ধান

পথে প্রান্তরে অনলাইন ডেস্ক:

বাংলাদেশ থেকে অর্থ পাচার করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকার সম্পত্তির সন্ধান পেয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল (সিআইসি)।

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত পাঁচটি দেশের সাতটি শহরে অনুসন্ধান চালিয়ে এ তথ্য পাওয়া গেছে বলে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে জানান সিআইসির মহাপরিচালক আহসান হাবিব।

রবিবার (১৭ আগস্ট) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার উপস্থিতিতে এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান ও সিআইসি মহাপরিচালক এ তথ্য উপস্থাপন করেন। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, উল্লিখিত পাঁচটি দেশের বাইরেও আরও নয়টি দেশে ৩৫২টি বিদেশি পাসপোর্টের সন্ধান পাওয়া গেছে। বাংলাদেশি নাগরিকরা টাকার বিনিময়ে এসব পাসপোর্ট সংগ্রহ করেছেন। দেশগুলো হলো— অ্যান্টিগুয়া অ্যান্ড বারবুডা, অস্ট্রিয়া, ডোমিনিকা, গ্রেনাডা, সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস, নর্থ মেসিডোনিয়া, মাল্টা, সেন্ট লুসিয়া ও তুরস্ক।

আহসান হাবিব জানান, দেশে বসেই বিভিন্ন উৎস থেকে তথ্য সংগ্রহের পর প্রাথমিক প্রস্তুতি নিয়ে সিআইসির গোয়েন্দারা দেশগুলোতে সরেজমিনে তদন্ত চালিয়েছেন। এখন পর্যন্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে পাচারকৃত অর্থে গড়ে তোলা ৩৪৬টি সম্পত্তির তথ্য পাওয়া গেছে। এটি অনুসন্ধানের আংশিক চিত্র মাত্র।

তিনি আরও বলেন, এসব সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে দেশের অনুকূলে নিয়ে আসা এবং জড়িতদের শাস্তির আওতায় আনতে সিআইসি কাজ করছে। ইতোমধ্যে ছয়টিরও বেশি আন্তর্জাতিক সংস্থা বাংলাদেশকে সহযোগিতা করছে। “আমরা যা পেয়েছি এটি বরফখণ্ডের চূড়ামাত্র। আমাদের কাছে আরও বিপুল তথ্য রয়েছে, যা উন্মোচনে সময় প্রয়োজন।”

শেখ হাসিনার আমলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডাটাবেজ (সিবিএস) নিয়ন্ত্রণে নিজেদের লোক বসিয়ে অর্থ পাচারকারীরা বহু তথ্য মুছে দিয়েছিল জানিয়ে আহসান হাবিব বলেন, “আশার বিষয় হচ্ছে, মুছে ফেলা তথ্য উদ্ধারে এখন সিআইসি দক্ষতা অর্জন করেছে।”

বিস্তারিত তথ্য শোনার পর প্রধান উপদেষ্টা বলেন, অর্থ পাচারের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। এজন্য দুদক, সিআইসি, পুলিশের সিআইডি এবং অন্যান্য সংস্থার সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে হবে।

তিনি বলেন, “এমন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে যাতে ভবিষ্যতে কেউ দেশের সম্পদ লুট করে বিদেশে সম্পত্তি গড়তে না পারে।”

সিআইসিকে অনুসন্ধান অব্যাহত রাখার নির্দেশ দিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “যতটা সম্ভব গভীরে যেতে হবে এবং সম্ভাব্য আরও দেশে অনুসন্ধান বিস্তৃত করতে হবে। দেশের সম্পদ ফেরাতে সরকার সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।”

দেশের অর্থনৈতিক খাতের এ লুটপাটকে ভয়াবহ দেশদ্রোহিতা হিসেবে উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সুন্দর দেশ গড়তে হলে অবশ্যই লুটেরাদের আইনের আওতায় আনতে হবে। দেশের সম্পদ কীভাবে লুট হয়েছে তা জাতির সামনে প্রকাশ করতে হবে। এজন্য সব সংস্থাকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।”

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এই বিভাগের আরও সংবাদ >

সর্বশেষঃ