আফসার রেজা, পথে প্রান্তরে:
১৯৫৮ সালের ১৮ আগস্ট। এক ঐতিহাসিক দিন। সেদিন ইংলিশ চ্যানেলের শীতল অথচ উত্তাল জলে ঝাঁপ দিয়েছিলেন বিক্রমপুরের তরুণ সাঁতারু ব্রজেন দাস। রাতের অন্ধকার ভেদ করে তাঁর সেই যাত্রা ছিল কেবল সাঁতার নয়—ছিলো সাহস, দৃঢ়তা আর স্বপ্নের এক অপার মহাকাব্য।
ব্রজেন দাস ছোটবেলা থেকেই নদীর সন্তান। বুড়িগঙ্গা, শীতলক্ষ্যা আর মেঘনার স্রোতে গা ভাসিয়ে তিনি তৈরি করেছিলেন নিজের শরীর আর মনকে। স্রোত, বাতাস আর ঢেউ ছিল তাঁর প্রতিদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী। বহু দীর্ঘ সাঁতার প্রতিযোগিতা আর সমুদ্রপথে অংশ নিয়ে তিনি নিজেকে প্রস্তুত করেছিলেন ইংলিশ চ্যানেলের মতো কঠিন চ্যালেঞ্জের জন্য।
সেই ১৮ আগস্টের মধ্যরাতে তিনি সাঁতার শুরু করেন। ২৩টি দেশের সেরা সাঁতারুরা অংশ নিয়েছিলেন প্রতিযোগিতায়। কিন্তু সবাইকে পেছনে ফেলে ব্রজেন দাস সবার আগে ফ্রান্স থেকে ইংল্যান্ডে পৌঁছে যান। তিনি হয়ে ওঠেন প্রথম এশীয়, যিনি ইংলিশ চ্যানেল জয় করলেন। আর এ কৃতিত্ব এনে দেয় বাংলাদেশকেও এক অমলিন গৌরব।
এরপর থেমে থাকেননি তিনি। ১৯৫৮ থেকে ১৯৬১ পর্যন্ত ছয়বার ইংলিশ চ্যানেল অতিক্রম করেন। ১৯৬১ সালে মাত্র ১০ ঘণ্টা ৩৫ মিনিটে সাঁতার কেটে গড়েন দ্রুততম সময়ের রেকর্ড। যে রেকর্ড সেই সময় পর্যন্ত কারো পক্ষে ভাঙা সম্ভব হয়নি।
ব্রজেন দাস পেয়েছিলেন জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার এবং স্বাধীনতা পুরস্কার। ঢাকার জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের অভ্যন্তরে আজ তাঁর নামে একটি সুইমিং পুল রয়েছে। তরুণ সাঁতারুরা সেখানে অনুশীলন করে নতুন স্বপ্ন বুনে, নতুন সাহস খুঁজে।
ব্রজেন দাসের কাহিনি কেবল একজন সাঁতারুর জয়গাথা নয়, এটি সাহস, অধ্যবসায় আর সীমা ভাঙার প্রতীক। তাঁর সেই ঐতিহাসিক সাঁতার আজও তরঙ্গের মতো অনুপ্রেরণা জাগায়—বাংলাদেশের প্রতিটি প্রজন্মকে।








