মাহবুবুর রহমান ডিপটি, স্টাফ রিপোর্টার:
“সবুজে সাজাই বাংলাদেশ” স্লোগানকে সামনে রেখে টাঙ্গাইলের কালিহাতীর বল্লা করোনেশন স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ কর্মসূচির আয়োজন করে প্রকৃতি ও জীবন ক্লাব, টাঙ্গাইল।
মানব জীবনের অস্তিত্ব প্রকৃতির সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। প্রকৃতির ভারসাম্য নষ্ট হলে মানবসভ্যতাও হুমকির মুখে পড়ে। গাছ এই ভারসাম্য রক্ষার অন্যতম প্রধান উপাদান। তাই বৃক্ষরোপণকে কেবল ব্যক্তিগত বা মৌসুমি কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধ না রেখে সামাজিক আন্দোলনে রূপ দেওয়া সময়ের দাবি।
গাছ বায়ুমণ্ডলের অতিরিক্ত কার্বন-ডাই-অক্সাইড শোষণ করে অক্সিজেন উৎপন্ন করে, বায়ুদূষণ কমায় এবং জীবজগতের টিকে থাকার জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে। এছাড়া গাছ মাটিকে ক্ষয় থেকে রক্ষা করে, পানির ভারসাম্য বজায় রাখে এবং জীববৈচিত্র্য টিকিয়ে রাখে।
বিশ্ব বর্তমানে জলবায়ু পরিবর্তনের গুরুতর সমস্যার সম্মুখীন। শিল্পকারখানা ও জীবাশ্ম জ্বালানির কারণে গ্রিনহাউস গ্যাস বেড়ে পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে। হিমবাহ গলছে, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ছে। গাছ প্রাকৃতিক “কার্বন সিঙ্ক” হিসেবে কাজ করে এ সংকট মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ওজোন স্তর পৃথিবীকে ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি থেকে রক্ষা করে। কিন্তু বন উজাড় ও দূষণে ওজোন স্তর ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বৃক্ষরোপণ ও বনায়ন প্রকৃতির স্বাভাবিক ভারসাম্য বজায় রাখে এবং ওজোন স্তরকে রক্ষা করে।
বৃক্ষরোপণ কেবল সরকারের দায়িত্ব নয়, বরং সমাজের প্রতিটি মানুষের এতে অংশগ্রহণ জরুরি। স্কুল, কলেজ, মসজিদ, মন্দির, বাজার, রাস্তার ধারে ও পতিত জমিতে বৃক্ষরোপণকে উৎসাহিত করতে হবে। গণসচেতনতা, বিভিন্ন সংগঠনের উদ্যোগ, মিডিয়ার প্রচার এবং তরুণ প্রজন্মের সক্রিয় অংশগ্রহণ এ উদ্যোগকে গণআন্দোলনে রূপ দিতে পারে।
ভবিষ্যৎ প্রজন্মের টিকে থাকার জন্য প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা, গ্রিনহাউস প্রভাব কমানো এবং ওজোন স্তর সংরক্ষণে গাছের কোনো বিকল্প নেই। তাই এখনই বৃক্ষরোপণকে সামাজিক আন্দোলনে রূপ দেওয়া অত্যন্ত জরুরি।








