ব্যুরো চিফ, খুলনা:
জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উপলক্ষে খুলনায় “মৎস্য সম্পদের স্থায়িত্বশীল উন্নয়ন এবং সর্বোত্তম ব্যবহার” শীর্ষক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে নগরীর বাংলাদেশ ফ্রোজেন ফুডস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএফএফইএ) সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন মৎস্য অধিদপ্তরের বিভাগীয় উপপরিচালক বিপুল কুমার বসাক। তিনি বলেন, “একসময় দেশের মোট রপ্তানি আয়ে মৎস্য খাত দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অবদান রাখত। কিন্তু বর্তমানে তা পাঁচ ধাপ পিছিয়ে সপ্তম স্থানে নেমে এসেছে। এ অবস্থার পরিবর্তন জরুরি।”
তিনি আরও বলেন, ভালো মানের পোনা সরবরাহ নিশ্চিত করতে মৎস্য বিভাগ আরও সক্রিয় হবে। কার্প জাতীয় মাছ চাষের পাশাপাশি দেশীয় প্রজাতির মাছ রক্ষায় সরকারি উদ্যোগগুলোর কার্যকর বাস্তবায়ন প্রয়োজন।
সভায় জানানো হয়, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে দেশে মোট ৫০.১৮ লাখ মেট্রিক টন মাছ উৎপাদিত হয়েছে। বর্তমানে প্রায় ২ কোটি মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে মৎস্য খাতের সঙ্গে যুক্ত, যার মধ্যে প্রায় ১৪ লাখ নারী। দেশের জিডিপিতে মৎস্য খাতের অবদান ২.৫৩ শতাংশ এবং কৃষিজ জিডিপিতে ২২.২৬ শতাংশ। বিশ্ব র্যাংকিং অনুযায়ী বাংলাদেশ ইলিশ আহরণে প্রথম, অভ্যন্তরীণ মুক্ত জলাশয়ে মাছ আহরণে দ্বিতীয় এবং তেলাপিয়া উৎপাদনে পঞ্চম স্থানে রয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৯১ হাজার মেট্রিক টন মাছ ও মৎস্যজাত পণ্য বিদেশে রপ্তানি করে ৬ হাজার ১৪৫ কোটি টাকা আয় হয়েছে।
বক্তারা বলেন, মানসম্মত মৎস্যপণ্য রপ্তানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের আরও বড় সুযোগ রয়েছে। তবে পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণ না হলে আন্তর্জাতিক বাজার হারাতে হতে পারে। এজন্য পোনা সংগ্রহ, চাষ, আহরণ, বাজারজাত ও প্রক্রিয়াজাতকরণসহ প্রতিটি ধাপে মান পরীক্ষা জরুরি।
মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন খুলনা বিএফএফইএ’র সাবেক সহসভাপতি এস. হুমায়ুন কবীর। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. বদরুজ্জামান, মৎস্য অধিদপ্তরের কোয়ালিটি কন্ট্রোল ল্যাবরেটরির কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স ম্যানেজার মো. জাহিদুল হাসান এবং মৎস্য পরিদর্শন ও মাননিয়ন্ত্রণ দপ্তর খুলনার সিনিয়র সহকারী পরিচালক মো. আবুল হাসান।
সভায় খুলনা অঞ্চলের মৎস্য খাতের অবদান, লাভজনক ও মানসম্মত মাছচাষ এবং মৎস্য ও মৎস্যপণ্য (পরিদর্শন ও মান নিয়ন্ত্রণ) আইন-২০২০ বিষয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মান নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা লিপ্টন সরদার। মৎস্য অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয় আয়োজিত এ সভায় মাছচাষি, ব্যবসায়ী ও রপ্তানি খাতের সংশ্লিষ্টরা অংশ নেন।








