,

শেবামেকের অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেট ভেঙে দিলেন পরিচালক

ব্যুরো চীফ, বরিশাল:

বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ (শেবামেক) হাসপাতালের সামনে দীর্ঘদিন ধরে চলমান বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়েছেন হাসপাতালের পরিচালক।

বুধবার (২০ আগস্ট) হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. একেএম মশিউল মুনীর হাসপাতাল চত্বরে অবৈধ অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেট উৎখাত করে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স পার্কিংয়ে কঠোর নিষেধাজ্ঞা দেন। একই সঙ্গে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স ব্যবহারের জন্য রোগীদের প্রতি আহবান জানিয়ে জরুরি বিভাগে নোটিশ টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে।

পরিচালকের নির্দেশে হাসপাতাল চত্বরে অ্যাম্বুলেন্স ভাড়ার তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে এবং জরুরি প্রয়োজনে অ্যাম্বুলেন্স পেতে হটলাইন চালু করা হয়েছে। রোগী এবং তাদের স্বজনরা হাসপাতালের এই সিদ্ধান্তে খুশি। তারা জানিয়েছেন, এখন থেকে নিজের ইচ্ছামতো অ্যাম্বুলেন্স সেবা নিতে পারবে এবং হয়রানির শিকার হবেন না।

জানা গেছে, শেবামেক হাসপাতালে বৈধ ও অবৈধ মিলিয়ে প্রায় একশ’টি অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ২০টি মাইক্রোবাস অবৈধভাবে রোগী পরিবহণে ব্যবহৃত হচ্ছিল। এসব অ্যাম্বুলেন্সের সমন্বয়ে হাসপাতাল চত্বরেই গড়ে ওঠেছিল অবৈধ সিন্ডিকেট।

বছরের পর বছর ধরে হাসপাতাল চত্বরে অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য চলছিল। সিন্ডিকেটের কারণে একাধিকবার অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। এমনকি মাদক সেবন ও বেচাকেনা পর্যন্ত সিন্ডিকেটের আড়ালে গড়ে উঠেছে। পূর্ববর্তী প্রশাসন এমনকি হাসপাতালের জরুরি বিভাগের পাশের সরকারি জমিতে অ্যাম্বুলেন্স স্ট্যান্ড তৈরি করেছিলেন।

ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন, সিন্ডিকেটের কারণে রোগী ও তাদের স্বজনরা নিয়মিত হয়রানির শিকার হতেন। ঢাকা থেকে আসা অ্যাম্বুলেন্স হলে খরচ সর্বোচ্চ তিন থেকে চার হাজার টাকা হলেও, সিন্ডিকেট বাধার কারণে ঢাকার অ্যাম্বুলেন্স চত্বরে প্রবেশ করতে পারত না। নিজের অ্যাম্বুলেন্সে রোগী আনলেও সিন্ডিকেটকে দিতে হতো তিন হাজার টাকা কমিশন। না দিলে কমপক্ষে ১২ হাজার টাকায় বাধ্যতামূলক অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া নিতে হতো। প্রতিবাদ করলে হেনস্তার শিকার হতো রোগীর স্বজনরা।

পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. একেএম মশিউল মুনীর জানিয়েছেন, বেসরকারি কোনো অ্যাম্বুলেন্স হাসপাতাল চত্বরে অবস্থান করতে পারবে না। রোগী নিয়ে আসলে তাদের নামিয়ে দিয়ে দ্রুত চত্বর ত্যাগ করতে হবে। হাসপাতালের অভ্যন্তরে অ্যাম্বুলেন্স পার্কিং করে রোগী ধরতে পারবে না। এর বিপরীতে সরকারি সাতটি অ্যাম্বুলেন্স জরুরি বিভাগের কাছে পার্কিং করা হয়েছে। সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের ভাড়া তালিকা জরুরি বিভাগে টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে।

সরকার নির্ধারিত ভাড়া অনুযায়ী, বরিশাল সিটির মধ্যে যেকোনো স্থানে সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের ভাড়া মাত্র ৩০০ টাকা। সিটির বাইরে গেলে প্রতি কিলোমিটারে ১০ টাকা করে ভাড়া দিতে হবে। রোগী ও তাদের স্বজনরা সরকারি অ্যাম্বুলেন্স পেতে (০১৭৮২-৭৫৫৫০০) নম্বরে যোগাযোগ করতে পারবেন।

পরিচালক আরও জানিয়েছেন, রোগীদের ভোগান্তি বা জিম্মি করে কোনো সিন্ডিকেট চলবে না। এ কারণে অবৈধ অ্যাম্বুলেন্সগুলো হাসপাতাল চত্বর থেকে উৎখাত করা হয়েছে এবং স্ট্যান্ডের গেটে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা উপেক্ষা করলে অ্যাম্বুলেন্স চালক বা মালিকদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এই বিভাগের আরও সংবাদ >

সর্বশেষঃ