বৃহস্পতিবার, ৩০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ল্যাম্পপোস্টের বৈদ্যুতিক তার চুরি, অন্ধকারে মওলানা ভাসানী সেতু

গাইবান্ধা প্রতিনিধি:

গাইবান্ধার হরিপুর-চিলমারী সংযোগ সড়কে তিস্তা নদীর ওপর নির্মিত বহুল প্রতীক্ষিত ‘মওলানা ভাসানী সেতু’ উদ্বোধনের দ্বিতীয় রাতেই পড়েছে চরম নিরাপত্তাহীনতায়। সেতুর ল্যাম্পপোস্টগুলোর বৈদ্যুতিক তার চুরি হয়ে যাওয়ায় পুরো সেতুটি অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়েছে। এতে যানবাহন ও পথচারীদের চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে, আর দুর্ঘটনার আশঙ্কা বেড়েছে কয়েকগুণ।

শুক্রবার (২২ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন গাইবান্ধা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী উজ্জ্বল চৌধুরী। তিনি জানান, উদ্বোধনের পরদিন রাতেই দুর্বৃত্তরা একাধিক ল্যাম্পপোস্টের বৈদ্যুতিক তার কেটে নিয়ে গেছে। ফলে সেতুর পুরো আলোকসজ্জা অচল হয়ে পড়ে।

এর আগে বৃহস্পতিবার রাতেই সেতুটি অন্ধকারে ডুবে যায়। অনেক যাত্রী ও স্থানীয়রা লাইট বন্ধ থাকা অবস্থার ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করেন। ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে তার কেটে নেওয়া ল্যাম্পপোস্টগুলোর ছবিও।

স্থানীয় বাসিন্দা, পথচারী ও যানবাহন চালকরা জানান, আলো না থাকায় সন্ধ্যার পর থেকে রাতভর সেতুতে চলাচল করতে হচ্ছে অন্ধকারে। এতে ছোট-বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা সবসময় থেকেই যাচ্ছে। তাদের দাবি, দ্রুত সেতুর ল্যাম্পপোস্টে নতুন বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে আলো ফিরিয়ে আনা হোক এবং ভবিষ্যতে এমন চুরি বা নাশকতা রোধে কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

তাদের মতে, মওলানা ভাসানী সেতুটি এখন কেবল যাতায়াতের মাধ্যম নয়, বরং একটি দর্শনীয় স্থান হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ সেতুটি দেখতে ভিড় করছেন। তাই দর্শনার্থীরা যেন সর্বোচ্চ নিরাপত্তার মধ্যে ঘুরে বেড়াতে পারেন এবং পথচারীরা রাতেও নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারেন—এটা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। অন্যথায় সেতু নির্মাণের মূল উদ্দেশ্যই ব্যর্থ হয়ে যাবে।

এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী উজ্জ্বল চৌধুরী বলেন, “বিষয়টি আমরা রাতেই জানতে পারি। উদ্বোধনের পরদিন কোনো এক সময়ে দুর্বৃত্তরা সেতুর ল্যাম্পপোস্টের বৈদ্যুতিক তার চুরি করেছে। আমরা দুষ্কৃতিকারীদের সনাক্ত করে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেব। একই সঙ্গে দ্রুত নতুন করে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার কাজ শুরু হবে। পাশাপাশি সেতুতে সার্বক্ষণিক পুলিশি নিরাপত্তা দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে।”

সুন্দরগঞ্জ থানার ওসি আব্দুল হাকিম আজাদ বলেন, “কর্তৃপক্ষের চুরি সংক্রান্ত অভিযোগ পেলে গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হবে। দুর্বৃত্তদের সনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ ছাড়া সেতুর শৃঙ্খলা রক্ষায় আজ থেকেই সেখানে পর্যাপ্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে। দ্রুতই একটি অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করা হবে এবং স্থায়ী পুলিশ ক্যাম্পের জন্য আবেদন করা হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে, এক মাসের মধ্যেই অনুমোদন মিলবে।”

উল্লেখ্য, গত ২০ আগস্ট দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটে উত্তরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ‘মওলানা ভাসানী সেতু’ উদ্বোধন করেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। উদ্বোধনের পর থেকেই প্রতিদিন হাজারো মানুষ সেতুটি দেখতে ভিড় করছেন। দর্শনার্থীদের প্রত্যাশা, সেতু যেন সবসময় নিরাপদ ও আলোকোজ্জ্বল পরিবেশে উপভোগ করা যায়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এই বিভাগের আরও সংবাদ >

সর্বশেষঃ