দিব্যতনু দাস, বাগেরহাট:
বাগেরহাটে চারটি সংসদীয় আসন বহাল রাখার দাবিতে জেলায় সর্বাত্মক হরতাল ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। রবিবার (২৪ আগস্ট) সকাল ৮টা থেকে খুলনা-বাগেরহাট মহাসড়কের কেন্দ্রীয় বাসস্ট্যান্ড, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে, খুলনা-মাওয়া মহাসড়কের নওয়াপাড়া, কাটাখালি, মোল্লাহাট সেতু, বাগেরহাট-পিরোজপুর মহাসড়কের সাইনবোর্ড বাজার, খুলনা-মোংলা মহাসড়কের ফয়লা, মোংলা বাসস্ট্যান্ডসহ অন্তত ১২টি স্থানে সড়ক অবরোধ করে সর্বদলীয় সম্মিলিত কমিটির নেতাকর্মীরা।
এতে জেলার ভেতর ও বাইরের সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাট-বাজার স্বতঃস্ফূর্তভাবে বন্ধ থাকে। এমনকি রিকশা ও নৌ-যান চলাচলও বন্ধ হয়ে যায়। সদর, মোড়েলগঞ্জ, ফকিরহাট, রামপাল, মোংলা, কচুয়া, চিতলমারী, শরণখোলা, মোল্লাহাট উপজেলা ও বাগেরহাট পৌরসভাসহ সর্বত্র সরকারি-বেসরকারি অফিস, দোকানপাট বন্ধ ছিল। মাছ ও সবজি ব্যবসায়ীরাও স্বতঃস্ফূর্তভাবে দোকান বন্ধ রাখেন। অভ্যন্তরীণ ও দূরপাল্লার সব ধরনের যান চলাচলও বন্ধ ছিল। তবে বিকেল ৫টার পর অবরোধ প্রত্যাহার করলে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে থাকে জনজীবন।
বাগেরহাট সর্বদলীয় সম্মিলিত কমিটির আহ্বায়ক বিএনপি নেতা ইঞ্জিনিয়ার এটিএম আকরাম হোসেন তালিম এবং সদস্যসচিব জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি শেখ মোহাম্মদ ইউনুস বলেন, “বাগেরহাটে চারটি আসন বহাল রাখার দাবিতে আমরা দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছি। কখনো সংবাদ সম্মেলন, কখনো অবরোধ, আবার কখনো জেলা প্রশাসক ও নির্বাচন অফিসে অবস্থান কর্মসূচি ও স্মারকলিপি দিয়েছি। কিন্তু নির্বাচন কমিশন আমাদের দাবি মানেনি। তাই আজকের হরতাল-অবরোধ। জেলার সর্বস্তরের মানুষ এতে অংশ নিয়েছে। আশাকরি নির্বাচন কমিশন দাবি মেনে নেবে, না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।”
গত ৩০ জুলাই নির্বাচন কমিশনের বিশেষ কারিগরি কমিটি বাগেরহাট জেলার চারটি আসন কমিয়ে তিনটি করার প্রস্তাব দেয়। এর পর থেকে জেলার সব রাজনৈতিক দল ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন চালিয়ে আসছে। আগামী ২৫ আগস্ট আসন কমানো বা বহাল রাখার বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের দপ্তরে শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।








