অনলাইন ডেস্কঃ
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের রায় পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) চেয়ে রাজনৈতিক দল ও ছয় ব্যক্তির করা চারটি আবেদনের ফের শুনানি আজ বুধবার (২৭ আগস্ট) অনুষ্ঠিত হবে।
প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সাত সদস্যের বেঞ্চে এ শুনানি শুরু হবে।
গতকাল মঙ্গলবার আদালতে রিভিউ আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির। রাষ্ট্রপক্ষে উপস্থিত ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান। পরে আপিল বিভাগ শুনানির পরবর্তী দিন হিসেবে আজকের তারিখ নির্ধারণ করেন।
এর আগে ২০১১ সালের ৬ এপ্রিল আপিল বিভাগের শুনানি শেষে বিষয়টি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখা হয়। একই বছরের ১০ মে আপিল বিভাগ সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনীকে অবৈধ ঘোষণা করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে। তবে রায়ে বলা হয়েছিল, আসন্ন দশম ও একাদশ জাতীয় নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হতে পারে। একই সঙ্গে সংসদে ঐকমত্যের ভিত্তিতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা নিয়োগের বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়। তৎকালীন প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হকের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ এ রায় দিয়েছিলেন।
চলতি বছরের ২৫ আগস্ট সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারসহ পাঁচ ব্যক্তি রিভিউ আবেদন করেন। বাকিরা হলেন—তোফায়েল আহমেদ, এম হাফিজ উদ্দিন খান, জোবাইরুল হক ভূঁইয়া ও জাহরা রহমান। তাঁদের পক্ষে আবেদন করেন অ্যাডভোকেট শরীফ ভূঁইয়া ও ব্যারিস্টার তানিম হোসেন শাওন।
এরপর গত ১৬ অক্টোবর বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী জয়নুল আবেদীন আরও একটি রিভিউ আবেদন করেন। সর্বশেষ ২৩ অক্টোবর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীও রিভিউ আবেদন দায়ের করে। জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের পক্ষে এ আবেদন করেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির।
উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালে সংবিধানে ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা চালু হয়। এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে অ্যাডভোকেট এম. সলিম উল্লাহসহ তিনজন আইনজীবী রিট দায়ের করেন। ওই বছরের ৪ আগস্ট হাইকোর্ট এ রিট খারিজ করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাকে বৈধ ঘোষণা করে। পরে ২০০৫ সালে এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হয়।
আপিল বিভাগ এ মামলায় আটজন অ্যামিকাস কিউরি (আদালতের বন্ধু) নিয়োগ করেছিলেন। তাঁদের মধ্যে ড. কামাল হোসেন, টিএইচ খান, সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল মাহমুদুল ইসলাম, ব্যারিস্টার এম. আমীর-উল ইসলাম ও ব্যারিস্টার রোকনউদ্দিন মাহমুদ সরাসরি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পক্ষে মত দেন। ব্যারিস্টার আজমালুল হোসেন কেসি ব্যবস্থাটি বাতিলের পক্ষে মত দেন। ব্যারিস্টার রফিক-উল-হক ও ড. এম. জহির তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সংস্কারের প্রস্তাব দেন। তৎকালীন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমও তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা বহাল রাখার পক্ষে মত দেন।








