শনিবার, ২০শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ঠাকুরগাঁওয়ে সাত মাসে অস্বাভাবিক মৃত্যু ২২০ জনের

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার বেগুনবাড়ি গ্রামের কিশোর হাফিজুর রহমান (১৬) পরিবারের একমাত্র সন্তান। পড়াশোনার পাশাপাশি হাফিজুর স্থানীয় মসজিদে হাফেজি পড়ত। মায়ের সঙ্গে অভিমান করে একদিন ঘরে রাখা ঘাসনিধনের বিষ খেয়ে ফেলে। দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো যায়নি।

হাফিজুরের মৃত্যুর পর পরিবার কান্নায় ভেঙে পড়েছে। তার মা চোখ মুছতে মুছতে বলেন, “ও আমাকে একবারও জানাল না কী কষ্টে আছে। যদি জানতাম, বুঝতাম, তাহলে হয়তো আজ আমার ছেলে বেঁচে থাকত।”

এ ঘটনা একক নয়। ঠাকুরগাঁও জুড়েই এমন কষ্টের খবর পাওয়া যাচ্ছে। ঠাকুরগাঁও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের জিআরও শাখার তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি থেকে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত জেলায় আত্মহত্যা, সড়ক দুর্ঘটনা ও পুকুর পানিতে ডুবে মারা গেছে ২২০ জন। থানাভিত্তিক অস্বাভাবিক মৃত্যুর হিসাব অনুযায়ী—পীরগঞ্জে ৫৮ জন, ঠাকুরগাঁও সদরে ৫৩ জন, রাণীশংকৈলে ২৮ জন, বালিয়াডাঙ্গীতে ২৭ জন, হরিপুরে ২১ জন, ভুল্লি থানায় ২২ জন এবং রুহিয়া থানায় ১৪ জন। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের জিআরও ফরিদ উজ্জামান বলেন, “এই আত্মহত্যার মধ্যে সবচেয়ে বেশি মানুষ গলায় ফাঁস দিয়ে জীবন শেষ করেছেন।”

পুলিশ জানায়, প্রেমে ব্যর্থতা, বাবা-মায়ের প্রতি অভিমান, দারিদ্র্য, ঋণগ্রস্ততা এবং পারিবারিক কলহ এ অঞ্চলে আত্মহত্যার প্রধান কারণ।

সম্প্রতি হরিপুর উপজেলার সাবেক ব্র্যাক ব্যাংক কর্মকর্তা মতুর্জা আলম (৪৫) স্ত্রীর প্রতি অভিমান করে গলায় ফাঁস দেন। এছাড়া কয়েক দিন আগে সদর উপজেলার নবম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রী পড়াশোনার চাপ সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যা করেছে।

ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের একজন চিকিৎসক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “অনেক রোগী আত্মহত্যার চেষ্টা করে হাসপাতালে আসে। কিন্তু সামাজিক লজ্জার ভয়ে পরিবারগুলো বিষয়টি গোপন রাখে। ফলে প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।”

জেলা হাসপাতাল বা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কোনো মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ নেই। ফলে বিষন্নতা, মানসিক চাপ বা আত্মহত্যার প্রবণ রোগীরা কোনো বিশেষায়িত চিকিৎসা পাচ্ছেন না।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এই বিভাগের আরও সংবাদ >

সর্বশেষঃ