শনিবার, ২০শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ঠাকুরগাঁওয়ে দাফন নিয়ে টানাপোড়েন

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রাজাগাঁও ইউনিয়নের জামাদারপাড়া গ্রামে মঙ্গলবার এক ব্যক্তির দাফনকে কেন্দ্র করে দিনভর টানাপোড়েন চলে। দবিরুল ইসলাম (৫২) ভোররাতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। তিনি দয়ালবাবা নামে একটি তরিকার অনুসারী ছিলেন, যা স্থানীয়দের মধ্যে দ্বিধা সৃষ্টি করে।

মঙ্গলবার রাত ৩টার দিকে মারা যাওয়া দবিরুলের লাশ বাড়িতে রাখা হলেও দিনভর জানাজা হয়নি। বিকেল নাগাদ স্থানীয়রা জানিয়ে দেন, ভ্রান্ত মতবাদের অনুসারী হওয়ায় তার জানাজা দেওয়া যাবে না। এতে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

জামাদারপাড়া মসজিদের সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হাদী বলেন, “দবিরুল দয়ালবাবার অনুসারী ছিলেন। ওই তরিকায় বলা হয় হাঁটতে হাঁটতে নামাজ পড়া যায়, খেতে খেতেও রোজা রাখা যায়। এগুলো ইসলামের মূলনীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।”

স্থানীয়রা জানায়, দবিরুল তার স্ত্রী ও দুই ছেলেকে নিয়ে কয়েক বছর আগে ওই তরিকার অনুসারী হন এবং এরপর থেকে গ্রামের মসজিদে কম অংশগ্রহণ করেন। বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ জমতে থাকে।

পরিস্থিতি জটিল হলে বিকেল ৪টার দিকে জামাদারপাড়া ও আশপাশের পাঁচ গ্রামের শতাধিক মানুষ বৈঠকে বসেন। সেখানে দবিরুলের দুই ছেলে, রেজেকুল ও সুবহান, স্থানীয় মসজিদের ইমামের কাছে তওবা পড়েন এবং প্রতিশ্রæতি দেন, আর দয়ালবাবার পথ অনুসরণ করবেন না। এরপর ইমাম, মসজিদ কমিটি ও মুসল্লিরা জানাজা দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

দবিরুলের ছোট ভাইয়ের স্ত্রী পারভিন বেগম বলেন, “এলাকার মানুষের কাছে ক্ষমা চাওয়ার পর সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে আমার ভাসুরের দাফন সম্পন্ন হয়। দিনভর টানাপোড়েনের পর শেষমেশ স্বাভাবিকভাবে দাফন সম্পন্ন হলো।”

জামাদারপাড়া ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, “এলাকাবাসী চেয়েছিল, যেন দবিরুলের সন্তানরা আর ভ্রান্ত পথে না যায়। তারা সেই প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পরই জানাজা ও দাফনে অংশ নেন।”

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এই বিভাগের আরও সংবাদ >

সর্বশেষঃ