ব্যুরো চীফ, বরিশাল:
বরিশালের মুলাদী উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের সাহেবেরচর গ্রামে বাবার নির্দেশে ভাইয়ের দুই চোখ উৎপাটনের ঘটনায় অভিযুক্ত দুই ভাইয়ের মধ্যে এক ভাইকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) বিকেলে বরিশাল জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শরিফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মুলাদী থানায় আহতের বাবাসহ আটজনকে আসামি করে মামলা দায়েরের পরপরই পুলিশের একাধিক টিম আসামিদের গ্রেপ্তারে মাঠে নামে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওইদিন সকালে উজিরপুর উপজেলার মশাং গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে আত্মগোপনে থাকা আসামি স্বপন বেপারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। মামলার অপর আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
জানা গেছে, পারিবারিক বিরোধ ও গচ্ছিত টাকা ও স্বর্ণালংকার ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করে গত ২২ আগস্ট গভীর রাতে রিপন বেপারী (৫০) নামের এক ভাইকে তার বড় ভাই রোকন বেপারী, ছোট ভাই স্বপন বেপারী, রোকনের স্ত্রী নুরুন্নাহার বেগম, মেয়ে সুবর্ণা আক্তারসহ কয়েকজন মিলে বেধড়ক মারধর করে। পরে বাবার নির্দেশে রিপনের দুই চোখ উৎপাটন করে বাবার হাতে তুলে দেওয়া হয়। বর্তমানে গুরুতর আহত রিপন ঢাকার জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
এ ঘটনায় গত ২৫ আগস্ট আহত রিপনের স্ত্রী নুরজাহান বেগম বাদী হয়ে আটজনকে আসামি করে বরিশাল জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলা গ্রহণ করে মুলাদী থানাকে এজাহার হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন।
এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে দেখা যায়, রোকন বেপারী আঙুল দিয়ে রিপনের চোখ উৎপাটনের চেষ্টা করছে। এসময় স্বপন রিপনের হাত-পা চেপে ধরে রাখে। রোকনের স্ত্রী নুরুন্নাহারের হাতে একটি উৎপাটিত চোখও ভিডিওতে ধরা পড়ে।
আহত রিপনের ছেলে শাহিন বেপারী জানান, তার বাবার কাছে প্রায় ৩০ লাখ টাকা ও ২০ ভরি স্বর্ণালংকার গচ্ছিত রেখেছিল রোকন। এগুলো ফেরত চাওয়ায় এই ভয়াবহ ঘটনার সূত্রপাত।
মুলাদী থানার ওসি মো. সফিকুল ইসলাম জানান, মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের একাধিক টিম অভিযান চালাচ্ছে।
স্থানীয়দের দাবি, আহত রিপনের বিরুদ্ধে ঢাকার রমনা থানায় চুরি-ছিনতাইয়ের অন্তত আটটি এবং মুলাদী থানায় হত্যা মামলাসহ প্রায় ২০টি মামলা রয়েছে।








