গাইবান্ধা প্রতিনিধি
গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার হামিন্দপুর (কামারপাড়া) এলাকায় দুর্গাপূজা উপলক্ষে তৈরি করা প্রতিমায় দুর্বৃত্তরা আগুন দিয়েছে। এতে দুর্গা, লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক ও গণেশসহ প্রতিমার বিভিন্ন সরঞ্জাম মুহূর্তেই পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) রাত পৌনে ১টার দিকে হামিন্দপুর সর্বজনীন দুর্গা মন্দিরে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও তার আগেই প্রতিমাগুলো সম্পূর্ণ পুড়ে যায়।
স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের অভিযোগ, মন্দির নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ক্যাশিয়ার কার্তিক চন্দ্রের সঙ্গে বিরোধ চলছিল। এর জেরে গত শনিবার দুপুরে তিনি মন্দিরের প্রধান দরজায় তালা ঝুলিয়ে দেন। বাধ্য হয়ে মন্দিরের দক্ষিণ পাশে খোলা আকাশের নিচে প্রতিমা তৈরির কাজ শুরু করেন কারিগররা। গত পাঁচ-ছয় দিনে বাঁশ ও খড় দিয়ে দুর্গা, লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক ও গণেশসহ প্রতিমা ও সরঞ্জাম তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু রাতের আঁধারে দুর্বৃত্তরা প্রতিমাগুলোতে আগুন ধরিয়ে দিলে মুহূর্তেই সব পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

মন্দির কমিটির সাবেক সভাপতি অনুকুল চন্দ্র রনু বলেন, “মন্দির নিয়ে সামাজিক বিরোধের কারণে আমরা ৮–১০টি পরিবার মন্দিরের পাশে ছাপড়া ঘর তুলে পূজার আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিই। সে অনুযায়ী প্রতিমা তৈরির কাজ চলছিল। কিন্তু পরিকল্পিতভাবে প্রতিমায় আগুন দেওয়া হয়েছে। এতে কার্তিক চন্দ্রের সম্পৃক্ততা আছে।”
মন্দিরপাড়ার বাসিন্দা টুলু বলেন, “বিরোধ নিয়ে আগে সমাধান হলেও কার্তিক চন্দ্র জোরপূর্বক মন্দিরে তালা লাগিয়ে দেন। প্রতিমা পুড়ে যাওয়ায় দুর্গাপূজা নিয়ে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। দ্রুত দোষীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছি।”
খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান সাদুল্লাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তাজউদ্দীন খন্দকার এবং উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক প্রভাত চন্দ্র অধিকারী। তারা প্রতিমা ক্ষতিগ্রস্ত স্থান পরিদর্শন করে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের সঙ্গে কথা বলেন।
ওসি তাজউদ্দীন খন্দকার বলেন, “রাতের অন্ধকারে দুর্বৃত্তরা প্রতিমায় আগুন দিয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। দুর্বৃত্তদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। এছাড়া বিরোধ মেটাতে উভয় পক্ষকে থানায় ডাকা হয়েছে।”
প্রভাত চন্দ্র অধিকারী বলেন, “মন্দির নিয়ে কার্তিক চন্দ্রের সঙ্গে বিরোধের বিষয়টি আমরা আগে থানায় বসে মীমাংসা করেছি। তবে আবারও দ্বন্দ্ব চলছিল। বিষয়টি সমাধানের জন্য বসার কথা ছিল, কিন্তু তার আগেই প্রতিমায় আগুন দেওয়া হয়েছে। আমরা দ্রুত উভয় পক্ষকে নিয়ে সমাধানের চেষ্টা করব।”
এদিকে অভিযোগের বিষয়ে জানতে একাধিকবার চেষ্টা করেও কার্তিক চন্দ্রের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। রাতে তার বাড়িতে গিয়ে ডাকাডাকি করলেও তিনি সাড়া দেননি।








