সোমবার, ২৫শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

যে কারণে নুরাল পাগলের লাশ কবর থেকে তুলে জ্বালিয়ে দিলো

রাজবাড়ী প্রতিনিধি

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে নুরুল হক ওরফে নুরাল পাগলের দরবারে আগুন দেওয়া এবং ভাঙচুর চালানোর ঘটনায় তৌহিদী জনতা জড়িত ছিল। এ সময় নুরাল পাগলের ভক্তদের সঙ্গে সংঘর্ষে দুই পক্ষের শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলে হামলা চালানো হয় পুলিশের ওপরও, ভাঙচুর করা হয় গাড়ি। এতে ছয় পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। পরে নুরাল পাগলের কয়েক দিন আগে দাফন করা লাশ কবর থেকে তুলে পুড়িয়ে দেওয়া হয়।

শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর আড়াইটা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত এ ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের নুরুল হক বা নুরাল পাগল বহু বছর আগে নিজ বাড়িতে দরবার শরিফ প্রতিষ্ঠা করেন। আশির দশকের শেষের দিকে নিজেকে ইমাম মাহদী দাবি করে আলোচনায় আসেন তিনি। তখন তার বিরুদ্ধে তীব্র জনরোষ তৈরি হয়। ১৯৯৩ সালের ২৩ মার্চ জনরোষ এড়াতে তিনি মুচলেকা দিয়ে এলাকা ত্যাগ করেন। কিছুদিন পর ফের ফিরে এসে দরবার শরিফের কার্যক্রম শুরু করেন।

গত ২৩ আগস্ট ভোরে বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে মারা যান। ওই দিনই সন্ধ্যায় এলাকাবাসীর অংশগ্রহণে তার প্রথম জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হয় এবং পরে ভক্তানুরাগীদের অংশগ্রহণে দরবার শরিফের ভেতরে দ্বিতীয় জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। রাত ১০টার দিকে তাকে মাটি থেকে প্রায় ১২ ফুট উঁচু স্থানে বিশেষ কায়দায় দাফন করা হয়। কবরটি পবিত্র কাবা শরিফের আদলে রঙ করা হয়। এরপর থেকেই বিষয়টি নিয়ে তৌহিদী জনতার মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়।

দফা দু’য় সংবাদের মাধ্যমে তারা কবর নিচে নামানো না হলে কবর ভেঙে ফেলার হুঁশিয়ারি দেয়। শুক্রবার জুমার নামাজের পর গোয়ালন্দ আনসার ক্লাব মাঠে বিক্ষোভ সমাবেশে এই হুঁশিয়ারি কার্যকর হয়। বিক্ষোভ থেকে হামলা চালানো হয় নুরাল পাগলের দরবারে, পাল্টা আক্রমণ চালায় ভক্তরা। ইট-পাটকেল নিক্ষেপসহ সংঘর্ষে দুই পক্ষের শতাধিক মানুষ আহত হন। এক পর্যায়ে দরবারে আগুন ধরিয়ে দেয় তৌহিদী জনতা। পরে লাশ কবর থেকে তুলে গোয়ালন্দ পদ্মার মোড়ে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের ওপর পুড়িয়ে দেওয়া হয়।

পুলিশের ওপর হামলা এবং দুটি গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় ছয় পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী দায়িত্বে এলে তাদের ওপরও হামলা চালানো হয়।

হামলায় ছয় পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি মোহাম্মদ রাকিবুল ইসলাম। ঘটনা স্থান পরিদর্শন করেছেন জেলা পুলিশ সুপার মো. কামরুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শরীফ আল রাজীবসহ অন্যান্য পুলিশ কর্মকর্তা। তবে তারা এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো মন্তব্য করেননি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এই বিভাগের আরও সংবাদ >

সর্বশেষঃ