বৃহস্পতিবার, ৪ঠা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

গণছুটিতে পল্লী বিদ্যুতের কর্মীরা: বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের আশঙ্কা

ব্যুরো চীফ, বরিশাল

চার দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে বরিশালের হিজলা উপজেলার পল্লী বিদ্যুৎ সাব-জোনাল অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অনির্দিষ্টকালের জন্য গণছুটি পালন করছেন।

সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জানা গেছে, গণছুটির কারণে গত দুই দিন থেকে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন বিদ্যুৎগ্রাহকরা। রবিবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে পল্লী বিদ্যুতের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অনির্দিষ্টকালের জন্য গণছুটিতে রয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের চার দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত করা যাবে না এবং বরখাস্তকৃতদের পুনর্বহাল করতে হবে, অব্যবস্থাপনার অবসান ঘটাতে হবে, বদলির নামে হয়রানি বন্ধ করতে হবে এবং জরুরি ভিত্তিতে দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।

সূত্রমতে, হিজলা সাব-জোনাল অফিসের আওতায় রয়েছে কাউরিয়া, মেমানিয়া ও হিজলা সদর। এ অফিসে মোট ৫৫ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন। এর মধ্যে ১৮ জন লাইনম্যান। ১০ জন লাইনম্যান জিএম বরাবর ছুটির ফরম পূরণ করে গণছুটিতে গেছেন। দুইজন প্রশিক্ষণে এবং দুইজন কর্মবিরতির আগেই ছুটিতে ছিলেন। বাকি চারজনের মধ্যে দুইজনকে অফিসে দেখা গেলেও তারা কাজে অংশগ্রহণ করেননি।

সোমবার দুপুরে পল্লী বিদ্যুৎ সাব-জোনাল অফিসে গিয়ে দেখা গেছে, এজিএমসহ কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মবিরতির মতোই অলস সময় পার করছেন। সেবা নিতে আসা গ্রাহকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, কারও মিটার নষ্ট, কারও বিদ্যুৎ বিল সংক্রান্ত জটিলতা, আবার অনেকের নতুন সংযোগের কাজ ঝুলে রয়েছে। তারা কোনো সেবা না পেয়ে ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।

কাউরিয়া অভিযোগ কেন্দ্রে গিয়ে দেখা গেছে, লাইন টেকনিশিয়ান মো. আবুল বাশার একা বসে আছেন। তিনি বলেন, এখানে ছয়জনের মধ্যে পাঁচজনই ছুটিতে থাকায় তিনি একা সবকিছু সামাল দিতে পারছেন না। তিনি আরও বলেন, “একবার বিদ্যুৎ লাইন বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে সংযোগ দেওয়া অসম্ভব হয়ে যাবে।”

গ্রাহক জয়নাল আবেদীন বলেন, “আমার বাড়িতে গত রাত থেকে বিদ্যুৎ নেই। বয়স্ক এবং শিশুরা প্রচণ্ড গরমে অসুস্থ হয়ে পড়েছে।”

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের এক কর্মচারী বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে নানা অনিয়ম-অব্যবস্থাপনা চলছে। কিন্তু আমাদের দাবি মানা তো দূরের কথা, উল্টো অন্যায়ভাবে বরখাস্ত, বদলি ও চাকরিচ্যুত করা হচ্ছে। এতে আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত গণছুটি কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”

হিজলা পল্লী বিদ্যুৎ সাব-জোনাল অফিসের প্রকৌশলী ফাইজুল ইসলাম বলেন, “আমাদের মূল চালিকাশক্তি হচ্ছে লাইনম্যানরা, তারাই অনুপস্থিত। আমরা কোনো গ্রাহককে সেবা দিতে পারছি না, ফলে কিছু গ্রাহক আমাদের ওপর ক্ষিপ্ত হয়েছেন।”

হিজলা সাব-জোনাল অফিসের এজিএম শ্যামল মণ্ডল জানান, “১০ জন লাইনম্যান জিএম বরাবর ছুটির ফরম পূরণ করে গণছুটিতে রয়েছেন। এছাড়াও অনেকে কাজে যোগদান করছেন না। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করা হয়েছে।”

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এই বিভাগের আরও সংবাদ >

সর্বশেষঃ