দিব্যতনু দাস, বাগেরহাট
বাগেরহাটে চারটি সংসদীয় আসন বহাল রাখার দাবিতে বুধবার থেকে টানা দু’দিনের হরতালে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। জেলা সদরসহ সকল উপজেলায় মহাসড়ক, সড়ক, আঞ্চলিক সড়ক এবং ইউনিয়ন পর্যায়ের রাস্তা-ঘাট বন্ধ রয়েছে। চলছে সর্বদলীয় সম্মিলিত কমিটি ও স্বতঃস্ফূর্ত এলাকাবাসীর বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ।
সকাল ৬টা থেকে বিভিন্ন সড়কে আগুন জ্বালিয়ে এবং গাছের গুড়ি ফেলে হরতাল বাস্তবায়ন করছে সর্বদলীয় সম্মিলিত কমিটির নেতাকর্মীরা। এসময় অফিস, আদালত, দোকানপাট ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দৃশ্যত বন্ধ রয়েছে। পরিবহন ও নৌ-চলাচলও স্থগিত। হরতাল বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা পর্যন্ত চলবে।
মিছিল ও সমাবেশে বিএনপি, জামায়াত, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিস, এনসিপি-সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের স্থানীয় নেতাকর্মীরা অংশ নেন। এছাড়া বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ স্বতঃস্ফূর্ত অংশ গ্রহণ করেন। জেলা নির্বাচন অফিস, আদালত ও জেলা প্রশাসকের অফিসে তালা দেয়া হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
সমাবেশে বক্তব্য দেন: জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এম এ সালাম, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট ওয়াহিদুজ্জামান দিপু, বিএনপি নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা মোজাফ্ফর আলম, জেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা রেজাউল করিম, নায়েবে আমীর আব্দুল ওয়াদুদ, সেক্রেটারি শেখ মোহাম্মদ ইউনুস, মঞ্জুরুল হক রাহাত, বিএনপি নেতা শাহেদ আলী রবি, শেখ মুজিবুর রহমান, ব্যারিষ্টার জাকির হোসেন, খাদেম নিয়ামুল নাসির আলাপ, খান মনিরুল ইসলাম, কামরুল ইসলাম গোড়া, সৈয়দ নাসির উদ্দিন মালেক, হাফিজুর রহমান তুহিন প্রমুখ।
বাগেরহাট জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এম এ সালাম বলেন, “নির্বাচন কমিশন বাগেরহাটের একটি সংসদীয় আসন কমিয়ে উপকূলীয় এই জেলার জনগণের আশা-আকাঙ্খাকে উপেক্ষা করেছে। বাগেরহাট একটি গুরুত্বপূর্ণ জেলা। ভৌগোলিক অবস্থা, জনসংখ্যা ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনায় চারটি আসন বহাল রাখা প্রয়োজন। একটি আসন কমে গেলে রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো উন্নয়ন, চাকরি ও সরকারি সেবায় বাগেরহাটবাসী বঞ্চিত হবে। তাই যতদিন পর্যন্ত চারটি আসন ফিরিয়ে না দেওয়া হবে, ততদিন আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া হবে।”
বাগেরহাট জেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা রেজাউল করিম বলেন, “বাগেরহাটবাসীর স্বার্থ রক্ষার এ আন্দোলন কোনো দলীয় আন্দোলন নয়। নির্বাচন কমিশনকে অবিলম্বে আসন পুনর্বিন্যাসের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে চারটি আসন বহাল রাখতে হবে। অন্যথায় আরও কঠোর কর্মসূচী ঘোষনা করা হবে। একইসাথে আমরা আইনগত লড়াইও চালাবো।”

জেলা বিএনপি যুগ্ন আহবায়ক ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবি ব্যারিস্টার জাকির হোসেন বলেন, “নির্বাচন কমিশন বাগেরহাটের মানুষের অধিকার কেড়ে নিয়েছে। চারটি আসন বহাল রাখার দাবিতে হরতাল, অবরোধ ও বিক্ষোভের পাশাপাশি স্বল্প সময়ে উচ্চ আদালতে রিট করা হবে।”
নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত সীমানার গেজেট অনুযায়ী বর্তমান আসনের সীমানা:
- বাগেরহাট-১: বাগেরহাট সদর, চিতলমারী, মোল্লাহাট
- বাগেরহাট-২: কচুয়া, মোরেলগঞ্জ, শরণখোলা
- বাগেরহাট-৩: ফকিরহাট, রামপাল, মোংলা
১৯৬৯ সাল থেকে ৪টি আসনে নির্বাচন হয়ে আসছিল। তখনকার সীমানা:
- বাগেরহাট-১: চিতলমারী, মোল্লাহাট, ফকিরহাট
- বাগেরহাট-২: বাগেরহাট সদর, কচুয়া
- বাগেরহাট-৩: রামপাল, মোংলা
- বাগেরহাট-৪: মোরেলগঞ্জ, শরণখোলা








