খোকন আহম্মেদ হীরা, বরিশাল
দীর্ঘ বছর কাঙ্খিত উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত বরিশালের গৌরনদী উপজেলার গ্রামীণ এলাকায় অবশেষে উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে। গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণ কর্মসূচীর আওতায় ইতোমধ্যে অসংখ্য কাঁচা রাস্তা ইটের সলিং, মাটির রাস্তা সংস্কার এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন কাজ হয়েছে। ফলে গ্রামীণ এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থার মান ব্যাপকভাবে উন্নত হয়েছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, কাবিখা, কাবিটা ও টিআর প্রকল্পে দুই কিস্তিতে উপজেলায় প্রায় আড়াই কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। বরাদ্দকৃত টাকার মাধ্যমে মোট ৩১৪টি প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
এর মধ্যে বেশির ভাগ প্রকল্পই মাটির রাস্তার সলিংকরণ। প্রকল্পের শতভাগ বাস্তবায়নের জন্য ইউপি চেয়ারম্যান, প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও ইউপি সদস্যদের কঠোর নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। যার ফলে পূর্বের তুলনায় কাজের মান গুণগতভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
মাহিলাড়া ইউনিয়নের হাপানিয়া গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল কাদের সরদার জানান, ছোট বেলা থেকেই তারা কাঁদা-মাটির রাস্তা দিয়ে চলাচল করতেন। সম্প্রতি ইউএনও ও পিআইও’র সহায়তায় রাস্তাটি ইটের সলিং করা হয়েছে, যার জন্য তারা কৃতজ্ঞ।
খাঞ্জাপুর, বার্থী ও সরিকল ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, গ্রামে এমনও রাস্তা ছিল যা বর্ষার পানিতে হাঁটু সমান জলমগ্ন হতো এবং ছাত্ররা চলাচল করতে পারত না। সেসব রাস্তা সংস্কার করে ইটের সলিং করা হয়েছে। এর সুফল পাচ্ছেন গ্রামীণ জনপদের বাসিন্দারা।
একাধিক ইউপি সদস্য জানিয়েছেন, পূর্ববর্তী সরকারের সময়ে কাজ না করেও অনেকে প্রভাব দেখিয়ে বিল উত্তোলণ করতো। এখন সেই সুযোগ নেই। পিআইও প্রকল্প সভাপতিদের মাধ্যমে শতভাগ কাজ আদায় করছেন। এর কারণে পিআইও’র বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. সালাউদ্দিন বলেন, প্রকল্প শুরুর আগেই কাজের গুণগত মান বজায় রাখার জন্য সভাপতিদের কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিটি প্রকল্প সরেজমিন পরিদর্শন করে গুণগত মান ঠিক রাখতে গিয়ে অনেকের বিরাগের মুখে পড়েছেন।
তিনি আরও বলেন, যাদের সুবিধা দিতে পারেননি তারা বিভ্রান্তিমূলক তথ্য ছড়িয়ে সুনাম ক্ষুণ্ণের চেষ্টা করছেন।
গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক রিফাত আরা মৌরি বলেন, আমি নিজেই অনেক প্রকল্প পরিদর্শন করেছি। প্রতিটি প্রকল্প মানসম্পন্ন হয়েছে এবং এর সুফল পাচ্ছেন গ্রামের বাসিন্দারা।








