ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
‘আব্বা, আমাকে বাঁচাও… আমি আর বাঁচব না।’— ইমো কলে ছেলের কান্নাভেজা এই আকুতি শুনে কেঁপে ওঠেন ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডুর চাঁদ আলী। ছেলের জীবন বাঁচাতে প্রথমে ধারদেনা, পরে জমি বিক্রি করে পাঠাতে হয় ৮ লাখ টাকা। একইভাবে যশোরের পলুয়া গ্রামের সালমা খাতুনও ছেলের মুক্তির জন্য পাঠিয়েছেন কয়েক লাখ টাকা।
লিবিয়ার মিসরাতা শহরে কাজ করতে যাওয়া যশোরের ফেরদৌস ও ঝিনাইদহের আলী হোসেন গত ১৯ এপ্রিল স্থানীয় এক সন্ত্রাসী চক্রের হাতে অপহৃত হন। পাঁচ দিন বন্দী থাকার পর মোটা অঙ্কের মুক্তিপণের বিনিময়ে তারা মুক্তি পান।
মুক্তিপণের বিনিময়ে জীবন ফিরে
চাঁদ আলী বলেন, “প্রথমে ৪ লাখ টাকা দাবি করল। ছেলের কান্নাজড়িত কণ্ঠে আকুতি শুনে পাঠালাম। এরপর আবারও দাবি এলো আরও ৪ লাখ টাকার। শেষ পর্যন্ত জমি বিক্রি করেই টাকা পাঠাতে হলো।”
টাকা পাঠানো হয় কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ার একটি ইসলামী এজেন্ট ব্যাংকের অ্যাকাউন্টে। স্থানীয়দের দাবি, এই ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ব্যবহারে কারও যোগসাজশ থাকতে পারে। তবে অভিযুক্ত ব্যাংককর্মী কোনো সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার করেছেন।
ফেরদৌসের মা সালমা খাতুন জানান, তার ছেলের মুক্তির জন্যও একইভাবে টাকা পাঠাতে হয়েছে নির্দিষ্ট ব্যাংক অ্যাকাউন্টে।
অপহরণকারীদের নেটওয়ার্কে বাংলাদেশি সংশ্লিষ্টতা
পরিবারগুলোর ধারণা, স্থানীয়দের পাশাপাশি বাংলাদেশি দুষ্কৃতিকারীরাও এই চক্রে জড়িত। কারণ মুক্তিপণের টাকা বাংলাদেশ থেকেই লেনদেন হয়েছে এবং নির্দিষ্ট ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর অপহরণকারীরাই সরবরাহ করেছে।
পুলিশের অবস্থান
ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইমরান জাকারিয়া বলেন,
“ভুক্তভোগী পরিবার অভিযোগ দিলে আমরা মামলা নেব। প্রয়োজনে তদন্ত করে অপহরণকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।”
বড় চিত্র: রেমিট্যান্সযোদ্ধাদের ঝুঁকিপূর্ণ জীবন
লিবিয়া, মালয়েশিয়া, সৌদি আরবসহ বহু দেশে শ্রমিক পাঠিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছে বাংলাদেশ। কিন্তু দালালচক্রের দৌরাত্ম্যে বহু শ্রমিক অবৈধ পথে বিদেশে গিয়ে পড়ছেন চরম ঝুঁকিতে। অপহরণ, মুক্তিপণ আদায় ও অমানবিক নির্যাতন প্রায় নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ
- বিদেশগামী শ্রমিকদের জন্য আইনগত ও নিরাপদ রুট নিশ্চিত করতে হবে।
- অবৈধ দালালচক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
- বিদেশে বাংলাদেশের দূতাবাসগুলোকে আরও সক্রিয় করতে হবে।








