সোমবার, ২৫শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

বন কর্মকর্তার ১৭ স্ত্রী: শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন

ব্যুরো চিফ, বরিশাল

বিদেশে পড়াশোনার সুযোগ, সরকারি চাকরি, বিমানবালা হিসেবে নিয়োগ কিংবা সম্পত্তি দেয়ার প্রলোভনে প্রতারণার মাধ্যমে বরিশাল বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. কবির হোসেন পাটোয়ারী ১৭ জন নারীকে বিয়ে করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

বিয়ের অল্প কিছুদিনের মধ্যেই যৌতুক দাবি ও শারীরিক নির্যাতনের কারণে একে একে তার সংসার ভেঙে যায়। ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, খুলনাসহ বিভিন্ন জেলার নারীরা তার প্রতারণার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ তুলে কবির হোসেনের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন ভুক্তভোগী নারী ও তাদের পরিবারের সদস্যরা।

ভুক্তভোগী পরিবার ও সুশীল সমাজের ব্যানারে বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) বরিশাল নগরীর কাশিপুর বন সংরক্ষক কার্যালয়ের সামনে ঘণ্টাব্যাপী এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় নিজেকে কবির হোসেনের স্ত্রী দাবি করা একাধিক নারী এসব অভিযোগ করেন।

নারীরা জানান, চাঁদপুরের মতলব উপজেলার বাসিন্দা কবির হোসেন এর আগে ঢাকা, খুলনা, সিরাজগঞ্জ, বাগেরহাটসহ বিভিন্ন জেলায় কর্মরত থাকাকালীন একাধিক বিয়ে করেছেন। ঢাকার নাজনিন আক্তার শীলা, নারায়ণগঞ্জের সোনিয়া, খুলনার নাসরিন আক্তার দোলনসহ ১৭ জন নারী তার প্রতারণার শিকার।

সবশেষ খুলনার চাকরিজীবী খাদিজা আক্তারকে চলতি বছরের ১৪ ফেব্রুয়ারি বিয়ে করেন কবির। বিয়ের দ্বিতীয় দিনেই স্ত্রীর বাবার সম্পত্তি লিখে দেয়ার দাবি করেন তিনি। রাজি না হওয়ায় খাদিজাকে বরিশালের সরকারি বাসভবন থেকে বের করে দেন।

খাদিজা আক্তার অভিযোগ করে বলেন, “প্রতারণার ফাঁদে ফেলে কবির আমাকে বিয়ে করেছে। বাবার বাড়ির সম্পত্তি লিখে না দেওয়ায় সে আমাকে নির্যাতন করে বের করে দেয়।”

অন্য স্ত্রী নাসরিন আক্তার বলেন, “আমাকেও প্রতারণার মাধ্যমে বিয়ে করেছে কবির। পরে বিষয়টি ধরা পড়লে আমাকে মারধর করে তাড়িয়ে দেয়। তিনি যেসব স্টেশনে চাকরি করেছেন, প্রায় প্রতিটি জায়গাতেই বিয়ে করেছেন। এরপর সেসব নারীর কোনো খোঁজখবর রাখেননি।”

নারীরা জানান, থানায়, আদালতে ও বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ দিয়েও কোনো প্রতিকার মেলেনি। একবার দাপ্তরিক প্রতারণার অভিযোগে গ্রেপ্তার হলেও প্রভাবশালীদের সহায়তায় জামিনে মুক্তি পান তিনি।

তারা কবির হোসেনকে ‘লম্পট’ আখ্যা দিয়ে দ্রুত গ্রেপ্তার ও বন বিভাগ থেকে অপসারণসহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

অভিযুক্ত ডিএফও কবির হোসেনের মোবাইলে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তা বন্ধ থাকায় মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে তার আইনজীবী এনায়েত হোসেন বাচ্চু বলেন, “আমার মক্কেলের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন।”

বরিশালের জেলা প্রশাসক মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, “বন কর্মকর্তার প্রতারণামূলক একাধিক বিয়ের বিষয়ে আমার জানা নেই। কেউ লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এই বিভাগের আরও সংবাদ >

সর্বশেষঃ