শনিবার, ২রা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ইতালিতে তিন দিনে নতুন করে ৫০০ অভিবাসী, তালিকায় বাংলাদেশিরাও

অনলাইন ডেস্ক

মাত্র তিন দিনে ১০টি নৌকায় চেপে ইতালির দক্ষিণাঞ্চলীয় দ্বীপ লাম্পেদুসায় অন্তত ৫০০ অভিবাসনপ্রত্যাশী পৌঁছেছেন। এ সময় উদ্ধার করা হয়েছে দুই অভিবাসনপ্রত্যাশীর মরদেহও। সোমবার থেকে বুধবারের মধ্যে তারা ইতালিতে পৌঁছান বলে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী জানিয়েছে।

সোমবার রাতে আট মিটার দীর্ঘ একটি নৌকা থেকে ৪৪ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীকে উদ্ধার করে ইতালির ফিন্যান্সিয়াল গার্ড। একই নৌকা থেকে দু’জনের মরদেহও উদ্ধার করা হয়। নৌকাটিতে মিসরীয়, ইরিত্রিয়ান, ইথিওপিয়ান, গাম্বিয়ান এবং আলজেরিয়ান নাগরিক ছিলেন।

অভিবাসনপ্রত্যাশীদের মধ্যে তিনজন হাইড্রোকার্বনজনিত বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত ছিলেন। তাদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়। আর মরদেহ দুটি কালা পিসানা সিমেট্রির মর্গে পাঠানো হয়েছে, যেখানে ময়নাতদন্ত হওয়ার কথা রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, ওই দু’জনও হাইড্রোকার্বন বিষক্রিয়ায় মারা গেছেন।

মঙ্গলবার রাতে লাম্পেদুসায় পৌঁছায় আরও অন্তত পাঁচটি নৌকা। এসব নৌকায় মোট ৩০০ জনের বেশি অভিবাসী ছিলেন। তারা আফগানিস্তান, বাংলাদেশ, মিসর, ইরিত্রিয়া, ইথিওপিয়া ও সুদানের নাগরিক। তাদের মধ্যে একজন কয়েক মাস বয়সী শিশু ও একজন সন্তানসম্ভবা নারীও ছিলেন।

অভিবাসীরা জানিয়েছেন, তারা লিবিয়ার আবু কামাশ থেকে যাত্রা করেছিলেন। ওই রাতেই ইতালির ফিন্যান্সিয়াল গার্ড পাঁচ মিটার দীর্ঘ একটি নৌকা থেকে আরও ১৫ জন অভিবাসীকে উদ্ধার করে। তাদের মধ্যে ইরিত্রিয়ান, সুদানিজ ও আইভোরিয়ান নাগরিক ছিলেন। এই অভিবাসীরা জানান, তারা তিউনিশিয়ার এল ওলগা থেকে যাত্রা করেছেন এবং এর জন্য প্রত্যেকে প্রায় ১,২০০ ইউরো খরচ করেছেন। উদ্ধারকৃতদের মধ্যে দু’জনকেও হাইড্রোকার্বন বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হওয়ায় লাম্পেদুসার একটি ক্লিনিকে নেওয়া হয়।

এছাড়া আরও দুটি নৌকায় ১০৬ জন অভিবাসী পৌঁছান। এর মধ্যে একটি নৌকা সরাসরি কালা উচেলোতে আসে। সেখানে তিন অপ্রাপ্তবয়স্কসহ মোট ৬৯ জন ছিলেন। তারা বাংলাদেশ, মিসর ও সোমালিয়ার নাগরিক এবং লিবিয়ার হোমস থেকে যাত্রা করেছিলেন। অপর নৌকায় ছিলেন ৩৭ জন আফগান, বাংলাদেশি, মিসরীয়, ইরিত্রিয়ান ও পাকিস্তানি।

বুধবার প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও দু’টি নৌকা থেকে ৭৪ জন অভিবাসীকে উদ্ধার করা হয়। তাদের মধ্যে একজন শিশু ও একজন সন্তানসম্ভবা নারী ছিলেন। রাবারের একটি নৌকায় ছিলেন ২২ জন ইরিত্রিয়ান, আরেকটি নৌকায় ছিলেন ৫২ জন অভিবাসী। তারা সবাই মিসরীয়, সুদানিজ, বাংলাদেশি ও সিরিয়ান নাগরিক।

এর আগে, গত শনিবার ও রোববার ১৫টি নৌকায় করে আরও ৮৪৭ জন অভিবাসী লাম্পেদুসায় পৌঁছান। সব মিলিয়ে দ্বীপটির একমাত্র অভিবাসী অভ্যর্থনা কেন্দ্রে বর্তমানে অভিবাসীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৪০০ জনেরও বেশি। যা গত কয়েক মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ।

তবে সমুদ্রের প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে অভিবাসীদের সিসিলিতে স্থানান্তর প্রক্রিয়া ধীর গতিতে চলছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ৩০০ অভিবাসীকে পোর্তো এমপেডোকলে স্থানান্তরের পরও হটস্পটে এক হাজার ৪২০ জন অভিবাসী অবস্থান করছেন। —ইনফোমাইগ্রেন্টস

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এই বিভাগের আরও সংবাদ >

সর্বশেষঃ